প্রকাশ: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ পিএম

নওগাঁর পত্নীতলায় এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। উপজেলার ১ হাজার ৭২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭৬৯ জন। ফেল করেছেন ৯৫২ জন। তবে সামগ্রিক ফলাফলের চেয়েও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেননি।
২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও আর্থসামাজিক বাস্তবতাকে ফল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না। তাঁরা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতেন। ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করতেন। তবে শিক্ষার্থীদের উদাসীনতা, অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অভিভাবকদের যথাযথ তদারকির অভাবে প্রত্যাশিত ফল অর্জন সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন তিনি।
ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হামিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অনেকেই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান। তাঁদের কেউ হ্যাচারিতে, আবার কেউ পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। ফলে পড়াশোনায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের সবাই বিবাহিত হওয়ায় তাঁদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন ছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানে গণিতের শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষকস্বল্পতাও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ফল বিপর্যয় এড়াতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মুরশিদুল আলম বলেন, শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এমন ফলাফল হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানা যাবে। ফলাফলের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ডিও অফিসের মাধ্যমে অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।