
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়া এবার অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই সরকারি চাকরিজীবীরা আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে নিজেদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ করতে পারবেন।
অর্থ বিভাগের জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী, পে ফিক্সেশনের জন্য সরকারি কর্মচারীদের আইবাস প্লাস প্লাসের নির্ধারিত অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। তথ্য সাবমিট করার আগেই সিস্টেমে নির্ধারণযোগ্য নতুন মূল বেতনের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখা যাবে।
যেভাবে আইবাস++ এ প্রবেশ করবেন
গেজেটেড কর্মকর্তারা আইবাস প্লাস প্লাসের নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করবেন। অন্যদিকে নন-গেজেটেড কর্মচারীরা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবেন।
সিস্টেমে প্রবেশের পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে পে ফিক্সেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বিদেশে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত ই-মেইলে ওটিপি পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে। আর কোনো কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে প্রথমে এনআইডির জন্য নিবন্ধন করতে হবে।
তথ্য সাবমিটের পর যা হবে
পে ফিক্সেশনের প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সাবমিট করার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি এসএমএস পাঠানো হবে। এরপর কর্মচারীর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য তা সংশ্লিষ্ট ড্রইং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারের (ডিডিও) কাছে যাবে।
গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ডিডিও বেতন নির্ধারণী বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বহি অনুযায়ী আগের চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করবেন ডিডিও।
হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই
এরপর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে কর্মচারীর তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করবে। অনুমোদনের পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি করবে।
এ ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে সার্ভিস বহিতে ভেরিফিকেশন নম্বর এবং নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হবে।
তথ্য দেওয়ার সময় সতর্কতা
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই নিয়মে দ্রুত বেতন নির্ধারণ এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে নেওয়া হচ্ছে। তাই পে ফিক্সেশনের সময় সরকারি কর্মচারীদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
ভুল বা অসঙ্গত তথ্য দেওয়া হলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। ফলে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করার আগে ব্যক্তিগত, চাকরি ও পূর্ববর্তী বেতনসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদেও অনলাইনে বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় পে ফিক্সেশনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি