
সিলেট নগরীকে পরিকল্পিত একটি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। সে লক্ষ্যে সিউক সিলেট নগরীসহ এর আশপাশ এলাকাজুড়ে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, গ্রিন ইকো হাউজিং প্রকল্প, সিউক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আউটার স্টেডিয়াম, পুরনো শতবর্ষের স্থাপনা বা বাড়িগুলো সংরক্ষণ, পরিত্যক্ত জায়গায় খেলার মাঠসহ একটি আধুনিক সিলেট নগরায়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা। আর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিউক তার নিজস্ব কার্যালয় গড়ে তুলতে দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে নিজস্ব জমিতে ভবন বানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। সিউক জানিয়েছে, আধুনিক নগরী গড়তে পরিকল্পিত আবাসন দরকার। তাই এখন থেকে সিসিক নয়, পরিকল্পিত ভবনের ভূমি ব্যবহারের আগে নকশা অনুমোদন করবে সিউক।
সিউকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আগে সিলেট নগরীর আবাসন বা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে সিলেট সিটি করপোরেশন নকশা অনুমোদন করত। কিন্তু সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-২০২৩ আইনের ৫৪ ধারামতে, এখন থেকে আবাসন বা বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন সিউক থেকে নিতে হবে। সিসিককে ইতিমধ্যেই সিউকের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিসিক যেন নতুন করে আর নকশা অনুমোদন না নেয়। সিউকের আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিসিক নকশা অনুমোদন দিলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
সিউকের সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে অনেক ভবনের রাস্তা সরু, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। অথচ সিসিক সরু রাস্তায় বিশাল ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করেছে। এতে সিলেট নগরীতে শুধু অপরিকল্পিত আবাসনই গড়ে উঠেনি, মানুষের অনিরাপত একটি বসতি তৈরি হয়েছে। এর যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আধুনিক আবাসন গড়ে তুলতে সিউক পর্যটন বান্ধব সিলেট গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভবন ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়ার দায়িত্ব সিসিক থেকে সরিয়ে সিউকের আওতায় নিয়ে আসবে।
সিউক আরও জানায়, ইতিমধ্যেই সিউকের কাজ বা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে নিজস্ব ভবন নির্মাণের কথা ভাবছে। দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে সিউকের স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিউক। শিগগিরই সেখানে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। আপাতত অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ফর্চুন গার্ডেনকে ব্যবহার করবে সিউক।
সিউকের কর্মকর্তারা জানান, সিলেটের পর্যটন স্পটের তালিকা করে সেগুলোকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে। সিলেটের ঐতিহ্য সংরক্ষণে বেশ কিছু প্রকল্প নিবে সিউক। পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই এলাকার গণপূর্তের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নেওয়া হবে। সিলেটে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, তাই আম্বরখানার মণিপুরি টিলার মাঠকে মিনি স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তুলবে সিউক।
সিউক সূত্রমতে, সিলেটের শিক্ষার মান উন্নয়নেও কাজ করবে সিউক। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সিউক স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কলেজ সিলেটের শিক্ষার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। সিউক একটি আধুনিক হাউজিং গড়ে তুলবে। সেখানে পরিকল্পিত একটি আধুনিক আবাসন শহর গড়ে তোলা হবে।
এ ব্যাপারে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘আমাকে সিউকের দায়িত্ব দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তার নির্দেশেই আমি সিলেটকে আধুনিক ও পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সিলেটে পরিকল্পিত আবাসন, পর্যটন স্থাপনা সংরক্ষণসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতেও কাজ করবে সিউক। সেজন্য সিউক তার জনবল নিয়োগ দিচ্ছে, শিগগিরই আমরা কাজ শুরু করব। সিলেটকে সুন্দর পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এখানকার নাগরিকদের সহযোগিতা নিয়েই সিউক কাজ করতে চায়।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ