
বেসরকারি ব্যাংকে এন্ট্রি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নিয়োগের পর শিক্ষাগত ও পেশাগত সনদ যাচাই এবং জাল সনদ শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, করপোরেট সুশাসন ও গ্রাহকের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
নিয়োগে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব এন্ট্রি পদে পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না—যেমন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার ও ক্যাশ অফিসার—এসব পদে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা চাকরির প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি দেশের অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
এন্ট্রি পদে সশরীরে বা অনলাইনে নৈর্ব্যক্তিক কিংবা লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষাও নিতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে।
এ ছাড়া অভিজ্ঞ প্রার্থীদের জন্য এন্ট্রি পদ ছাড়া অন্যান্য উচ্চতর পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও অন্তত মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক
নতুন নীতিমালায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকে যোগদানের এক বছরের মধ্যে নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বশেষ অর্জিত শিক্ষাগত সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
অন্যদিকে, বর্তমানে ব্যাংকে কর্মরত পুরোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত সনদের সত্যতা ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
পদোন্নতি বা আর্থিক ও অ-আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া পেশাগত কিংবা নতুন শিক্ষাগত সনদও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। পরামর্শক বা উপদেষ্টা ছাড়া চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যাংকার উচ্চতর পদে যোগ দিলে আগের প্রতিষ্ঠান সনদ যাচাইয়ের প্রত্যয়ন দিলে নতুন ব্যাংককে আবার শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।
জাল সনদে কঠোর ব্যবস্থা
নিয়োগের সময় কিংবা চাকরিরত অবস্থায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ছাড়া প্রতিটি ব্যাংককে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত যুগোপযোগী ও সমন্বিত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।
এই নীতিমালায় নিয়োগ, পদোন্নতি, ছুটি, আচরণবিধি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, হুইসেল ব্লোয়ার পলিসি ও স্বার্থের সংঘাত নিরসনসহ মোট ১৮টি নির্দিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ