আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেবেন ড. খলিলুর রহমান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৩ AM

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আজ মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর শপথ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বহুপাক্ষিক ফোরাম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে আবারও একজন বাংলাদেশি দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ অনুষ্ঠানের আগে একটি মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাংলাদেশ সময় রাত ১টার দিকে তিনি ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি মিটিং পরিচালনা করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন অধিবেশনের শুরুতেই সভাপতির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন ড. খলিলুর রহমান।
এর আগে গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন। নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিসকে ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
প্রায় চার দশক পর আবারও একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে আসছেন। ফলে ড. খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি ও ভূমিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর। ওই দিন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন।
ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এবারের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের জন্য এটি একই সঙ্গে একটি কূটনৈতিক অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি