
তীব্র রোদ ও দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে ত্বকে সান ট্যান বা রোদে পোড়া কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। এতে মুখ, হাত-পা কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বক আগের তুলনায় কিছুটা কালচে ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি রোদ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রোদে পোড়া ত্বকের যত্নে ঘরোয়া কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক রং দ্রুত বদলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
লেবু ও মধু: লেবুর রস ত্বকে জ্বালা বা সংবেদনশীলতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ব্যবহারের পর রোদে গেলে। তাই সরাসরি লেবুর রস মুখে লাগানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ট্যান কমানোর জন্য লেবুর বদলে মৃদু ও ত্বকবান্ধব উপাদান বেছে নেওয়া নিরাপদ।
টক দই ও বেসন: টক দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ অপসারণে সহায়তা করতে পারে। বেসন ত্বক পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপাদান হিসেবে প্রচলিত। তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করে মিশ্রণটি আলতোভাবে ব্যবহার করা উচিত।
অ্যালোভেরা জেল: রোদে থাকার পর ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হলে অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ঠান্ডা ও আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। রাতে পরিষ্কার ত্বকে অল্প পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো ধরনের জ্বালা বা অ্যালার্জি হলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
টমেটো: টমেটোতে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে কাঁচা টমেটোর রস সরাসরি ত্বকে লাগালে সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে। ত্বক সংবেদনশীল হলে জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
শসা: শসা ত্বকে ঠান্ডা ও সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। শসার রস ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। গোলাপ জল ব্যবহার করতে চাইলে সুগন্ধি বা অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো, বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে।
তবে ট্যান কমানোর চেয়ে রোদে ত্বকের আরও ক্ষতি হওয়া ঠেকানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার আগে ব্রড-স্পেকট্রাম SPF 30 বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে এবং ঘাম বা পানির সংস্পর্শে এলে সানস্ক্রিন পুনরায় প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি ছাতা, টুপি, সানগ্লাস ও শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার করলে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে ত্বককে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া যায়।
মনে রাখতে হবে, সান ট্যান সাধারণত ধীরে ধীরে কমে এবং ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। ত্বকে ফোসকা, তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত লালভাব বা দীর্ঘস্থায়ী কালচে দাগ দেখা দিলে ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি