
দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য মজুত ও খাদ্যের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে দুর্যোগ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মজুত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রোববার খাদ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য অধিদফতরের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। দেশের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে কি না, খাদ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কি না এবং দুর্যোগের সময় মানুষের কাছে যথাসময়ে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে কি না—এসব বিষয় সবসময় বিবেচনায় রাখতে হবে। এ কারণে নিরাপদ মজুত ও খাদ্যের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য অধিদফতরের দীর্ঘদিনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। দুই-একজনের অনিয়মের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য গুদাম ও অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গুদামটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পাশাপাশি দেশের অন্যান্য খাদ্য গুদাম ও স্থাপনার অবস্থাও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য পরিদর্শক, ওসি-এলএসডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের মান, গুদামে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ও গুণগত মান এবং স্থানীয় মানুষের সন্তুষ্টি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়ন করা যেতে পারে। ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে হবে।
খাদ্য অধিদফতরের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে নিয়মিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের কথাও জানান খাদ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে অধিদফতরে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা তাকে পাশে পাবেন। তবে সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, খাদ্য অধিদফতরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি অধিদফতরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খাদ্য অধিদফতরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ