| শিরোনাম: |

বিশ্বজুড়ে কান পরিষ্কার করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কটন বাড বা ইয়ার বাড। ব্যবহারের পর সাময়িক স্বস্তি অনুভূত হওয়ায় অনেকেই এটি নিয়মিত ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ইএনটি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন—কানের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে কটন বাড ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে একাধিক মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রথমত, কটন বাড ব্যবহারের ফলে কানের ওয়াক্স বা সেরুমেন ভেতরের দিকে ঠেলে যায়। কানকে সুরক্ষিত রাখতে এই ওয়াক্স স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়। কিন্তু ওয়াক্স ভেতরে জমে শক্ত হয়ে গেলে কান বন্ধ হয়ে থাকা, ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা এবং সাময়িক শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো কানের পর্দায় আঘাত লাগা। অসাবধানতাবশত বাড বেশি ভেতরে ঢুকে গেলে সংবেদনশীল কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে তীব্র ব্যথা, রক্তপাত, শোঁ শোঁ শব্দ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী বধিরতার ঝুঁকিও থাকে।
তৃতীয়ত, কটন বাড ব্যবহারের সময় কানের ভেতরের পাতলা ত্বকে ক্ষুদ্র ঘর্ষণ বা আঘাত লাগতে পারে। এসব স্থানে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়, যা ‘সুইমার্স ইয়ার’ বা ওটিটিস এক্সটার্না নামে পরিচিত। এতে কান ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া ও তীব্র ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।
চতুর্থত, অতিরিক্তভাবে ওয়াক্স পরিষ্কার করতে গেলে কানের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়। ওয়াক্সধুলাবালি ও সংক্রমণ থেকে কানকে রক্ষা করে। এটি কমে গেলে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ইএনটি বিশেষজ্ঞদের মতে, কান পরিষ্কারের জন্য কটন বাড মোটেই প্রয়োজন নেই। কথা বলা, চিবানো বা হাঁটার সময় ওয়াক্স স্বাভাবিকভাবেই বাইরে বেরিয়ে আসে। তাই অপ্রয়োজনে কান খোঁচানো উচিত নয়।
কোনো কারণে ওয়াক্স জমে গুরুতর সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ ড্রপ ব্যবহার করা বা পেশাদার উপায়ে কান পরিষ্কার করানোই নিরাপদ পদ্ধতি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ