
সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গারো সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক ফসল উৎসব “হালুয়াঘাট ওয়ানগালা-২০২৫” উপলক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্বাধীন ভূখন্ডে জন্ম ও বসবাসকারী সবাই আমরা বাংলাদেশী। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করে ধর্ম, বর্ণ, দল ও মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি “রেইনবো নেশন”, “ইনক্লুসিভ সোসাইটি” ও “পজিটিভ বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান অতিথি এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, রাজনীতি, ধর্ম, ভাষা বা সংস্কৃতি যার যার হলেও রাষ্ট্র সবার, সবার উপরে বাংলাদেশ—এই মূলনীতির আলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গারো সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সমাজে মূল্যবোধ ও গতি তৈরি করেছে এবং বাংলাদেশকে বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ করেছে।
উৎসবের উদ্বোধন করেন নকমা (সভাপতি) একাডেমীর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার প্রলয় স্নাল। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত গারো সম্প্রদায়ের নাগরিকরা ঐতিহ্যবাহী নগরা বাজিয়ে, জুম নৃত্য এবং রঙিন পোষাক পরিধান করে অংশগ্রহণ করেন। কামার (পুরোহিত) সূর্যদেবতা ও দেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফসল উৎপাদন ও উর্বরতার জন্য ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য অর্পণ করেন।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, গারো সম্প্রদায়ের অধিকার, ভাষা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ঐতিহ্য ও রীতি রক্ষা ও বিকাশে সকলে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পর্যটক আকর্ষণ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পরিচিতি নিশ্চিত করতে গারো সম্প্রদায়ের ইতিহাস, জীবনধারা ও সংস্কৃতি প্রদর্শন করে জাতিগত পর্যটন কেন্দ্র বা মিউজিয়াম গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, ওয়ানগালা শুধু ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবই নয়, বরং এটি গারো ও বাঙালির মধ্যে চমৎকার মেলবন্ধনও তৈরি করে। এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব দিন দিন আরও জৌলুসী হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যতে এটি সর্বজনীন উৎসব হিসেবে টিকে থাকবে।
এছাড়াও এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমীকে সচল ও কার্যকর করতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, একাডেমী হবে গারো সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু এবং মিলন মেলায় পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় নেতা, গারো ও বাঙালি নাগরিকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। হালুয়াঘাট ওয়ানগালা-২০২৫ উৎসবের মাধ্যমে জনগণ সমাজের বৈচিত্র্য, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ধারা উপভোগ করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ