প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৫ AM

জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়ে সমাধান আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
এর আগে, গত ১১ নভেম্বর জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছিলেন, “আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। যদি না পাই, ১৩ নভেম্বর আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেব।”
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনার পরও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়াসহ বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে বিএনপি প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে গণভোট ও পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আন্দোলনমুখী জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা দলগুলো।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষরের নিশ্চয়তা ছাড়া সনদে সই করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপেক্ষিত থাকার অভিযোগে সনদে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাম জোট।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, “জুলাই সনদে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি। রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খাটো করার শামিল।”
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “জুলাই সনদ প্রধান উপদেষ্টাকেই জারি করতে হবে। রাষ্ট্রপতির এর কোনো রাজনৈতিক, আইনি বা নৈতিক ভিত্তি নেই। পাশাপাশি গণভোট বাধ্যতামূলক করতে হবে। সরকার যদি এই দুই বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসে, তাহলে আমরা স্বাক্ষর করব।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জুলাই সনদের ৪৮টি পয়েন্টের মধ্যে ১৫টি ইস্যুতে দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, যা রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি করেছে। তবে সব পক্ষকে আস্থায় রেখে সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী সরকার।
প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, “এগুলো মৌলিক বিষয়। এসব ইস্যু রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। উপদেষ্টা পরিষদ আজকের বৈঠকে সেগুলো পর্যালোচনা করবে। সরকার আত্মবিশ্বাসী সব দলকে সঙ্গে নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে