প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:২৫ পিএম

ফাইল ছবি
আসন্ন ১৩ নভেম্বর ঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে নাশকতা পরিকল্পনায় অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফারুক হোসেন ওরফে ‘বোম ফারুক’কে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল জলিল। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশের দাবি, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ” নামের সংগঠনটি ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। সেই পরিকল্পনায় আর্থিক সহায়তা হিসেবে নিক্সন চৌধুরী বোম ফারুককে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর মধ্যে ৪ লাখ টাকা ফারুক হোসেন আরও একজনের কাছে হস্তান্তর করেন বলে স্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি এলাকার নুরজাহান টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ সময় যুব মহিলা লীগের সদস্য নাসরিন আক্তারকেও একই স্থান থেকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ফারুক হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়।
এসপি আব্দুল জলিল জানান, গত ৯ নভেম্বর ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও মহিলা যুবলীগের কর্মীরা একটি মিছিল বের করে। এতে বর্তমান সরকারবিরোধী স্লোগান, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের উসকানি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে উঠে আসে, ফারুক হোসেন মোবাইল ফোন ও বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে দলীয় লোকজনকে অর্থ পাঠিয়েছেন, যা ‘ঢাকা লকডাউন’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেনের নামে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় চারটি এবং রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় দুটিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনি ১৯৮১ সালে ইয়াসিন কলেজের ভিপি থাকাকালে একটি হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হন, সেই থেকেই তার নামের সঙ্গে ‘বোম’ উপাধি যুক্ত হয়।
এসপি জানান, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হবে। এ মামলায় উপপরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বাদী হতে পারেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর