| শিরোনাম: |

মানতের টাকা মসজিদে দেওয়া যাবে কি না, এ প্রশ্নটি অনেকের মনে জাগে। মসজিদ মহান আল্লাহর ঘর, যা মুমিনের জীবনে এক গভীর তাৎপর্য বহন করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে— “যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, নিশ্চয়ই তা তার অন্তরের তাকওয়া থেকেই।” (সুরা হজ: ৩২)
এ প্রসঙ্গে ইসলামি পণ্ডিতদের ব্যাখ্যা হলো— কোনো বৈধ উদ্দেশ্য পূরণের আশায় মানত করা শরিয়তসম্মত। অর্থাৎ কেউ যদি বিপদ থেকে মুক্তি, চাকরি লাভ বা বিয়ের জন্য মানত করে, তা বৈধ। তবে শর্ত হলো, কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল হতে হবে এবং সফল হলে সেই মানত পূর্ণ করতে হবে।
তবে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মানতের চেয়ে দান ও সদকার মর্যাদা বেশি। সদকা এমন এক আমল যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক। অন্যদিকে মানতকে নবী করিম (সা.) কৃপণ ব্যক্তির কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাদিসে এসেছে— “মানত এমন কোনো বিষয়কে মানুষের নিকটে আনতে পারে না যা আল্লাহ তার জন্য নির্ধারণ করেননি। বরং এটি কৃপণের কাছ থেকে সম্পদ বের করে আনে, যা সে স্বেচ্ছায় দিত না।” (সহিহ মুসলিম: ১৬৪০)
মানত গ্রহণযোগ্য হওয়ার কিছু শর্তও রয়েছে। ফিকাহবিদদের মতে, মসজিদের জন্য মানত করা শরিয়তসম্মত নয়। অর্থাৎ কেউ যদি মানত করে বলে— ‘চাকরি পেলে মসজিদে এক হাজার টাকা দেবো’, তাহলে তা ওয়াজিব হবে না। তবে মানত হিসেবে নয়, সাধারণ দান হিসেবে মসজিদে টাকা দেওয়া সওয়াবের কাজ এবং তা পূর্ণ করা উত্তম।
অর্থাৎ সারকথা হলো— মসজিদের জন্য মানত করা শরিয়তসম্মত নয়, তবে মসজিদে দান করা বা ওয়াদা পূরণ করা উত্তম ও সওয়াবের কাজ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ