প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ২:০০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জের খানপুরে আবু হানিফ (৩০) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বাসা থেকে তুলে নিয়ে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের খানপুর জোড়া পানি ট্যাংকিতে ছয়জন যুবক আবু হানিফকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইট দিয়ে আঘাত করছে। এই সময় পাশে একটি শিশু দাঁড়িয়ে ছিল। হানিফ বারবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও হামলাকারীরা থামেনি।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক হানিফকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হানিফের মৃত্যু হয়।
নিহত আবু হানিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আবুল কালামের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। খানপুরের জিতু ভিলায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন।
হানিফের ছোট ভাই হযরত আলী নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে—বাহার (৩৬), সাইদুল ইসলাম (২৫) ও মুশফিকুর রহমান (২৯)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র্যাব-১১ পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে মামলার ৯ নম্বর আসামি অপু (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানিয়েছেন, “মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, র্যাব আরও একজনকে হস্তান্তর করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” তিনি আরও জানান, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উল্লিখিত কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।