
সংগৃহীত ছবি
দেশে বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “দেশে অনেক ভুল বোঝাবুঝি, রক্তপাত, বিভাজন হয়েছে—আমরা এখন এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। ঐক্যের রাজনীতি দৃঢ় করতে চাই।”
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক সদস্যের বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০ জন বিএনপিতে যোগ দেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন সম্প্রদায়ের নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও সমেন সাহা।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই—একটি ঐক্যবদ্ধ, ভালোবাসার বাংলাদেশ। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যে বার্তা দিয়েছিলেন—‘আমরা প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার রাজনীতি চাই’—সেই নীতিতেই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “রাজনীতিতে এখন অনেকেই স্বার্থের কথা বলছে—কে পিআর করবে, কে করবে না, তা নিয়ে দর কষাকষি চলছে। কিন্তু আমরা ওই পথে যেতে চাই না। আমরা ১৯৭১ সালে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, এবং ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই (জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে) যে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছিল, সেটাই বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “বাইরের কিছু দেশ, কিছু মিডিয়া বাংলাদেশের ব্যাপারে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে। আমরা সেই ধারণা পাল্টে দিতে চাই। দুর্গাপূজার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা সারা দেশের পূজামণ্ডপে গেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। আমি নিজেও ঠাকুরগাঁওয়ের ২৬৫টি পূজামণ্ডপে গিয়েছি। বিএনপি সর্বধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও শান্তিপূর্ণ সমাজে বিশ্বাস করে।”
মির্জা ফখরুল প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করব—সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাউকে যেন হয়রানি না করা হয়। আমাদের কাছে এমন কিছু তথ্য আছে যে, কোথাও কোথাও ভয়ভীতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আমরা দেখতে চাই না যে, আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা কোনো বিপদের মুখে পড়েছেন।”
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, “আমরা এমন নেতা চাই, যিনি সবাইকে নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন—পালিয়ে যাবেন না। আওয়ামী লীগের মতো পালিয়ে যাওয়া নেতৃত্ব আমরা চাই না।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিজন কান্তি সরকারসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাকর্মীরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর