প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ১:১৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে, যার মধ্যে ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি অন্যতম, টানা ৯ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অবস্থান কর্মসূচির পর তারা এখন অনশনে বসেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মবিরতিও চলছে। এর ফলে দেশের ৩০ হাজারেরও বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে এবং ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকদের টানা আন্দোলনের মুখে বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ (সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা) করেছে সরকার। রোববার (১৯ অক্টোবর) এ নিয়ে আদেশ জারির পর শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার আশা প্রকাশ করেন যে, ‘শিক্ষকরা এবার ক্লাসে ফিরে যাবেন।’ তাদের প্রতি বিশেষভাবে শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বানও জানান।
তবে শিক্ষা উপদেষ্টার সেই আহ্বান ‘নাকচ’ করে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তারা সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে কর্মসূচি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে সব শিক্ষক ঢাকায় চলে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকরা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘শিক্ষা উপদেষ্টা যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে আমাদের সায় নেই। আমরা ৫ শতাংশের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছি। ২০ শতাংশের নিশ্চায়তা না নিয়ে শিক্ষকরা কোনোভাবেই ক্লাসে ফিরবে না।’
তিনি বলেন, ‘এতদিন আমরা অবস্থান কর্মসূচি করছিলাম। অনশনও চলছি। তবে এবার আমরা আমরণ অনশন করবো। পাশাপাশি আজ শিক্ষক সমাবেশ করা হবে। এতে সারাদেশ থেকে আসা লক্ষাধিক শিক্ষক অংশ নেবেন। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। যদি কোনো ধরনের হামলা শিক্ষকদের ওপর হয়, তাহলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে।’
গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ওপর শতাংশ হারে বাড়িভাড়ার দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করেন। সেখান থেকে দুই মাসের আলটিমেটাম দেন। শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় মাথাপিছু ৫০০ টাকা হারে বাড়িভাড়া দিতে সম্মত হয়। বিষয়টি ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষকরা।
১২ অক্টোবর তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ওই দিন বিকেলে জনভোগান্তি এড়াতে প্রেস ক্লাব থেকে শহীদ মিনারে চলে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/নিয়াজ