প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:২৯ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর কাঠগড়ায় হাজির হয়ে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু সহআসামিদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের সঙ্গে সম্ভবত আর দেখা হবে না, আমার মামলা ট্রাইব্যুনাল-২-এ পাঠানো হয়েছে।”
ইনুর এই মন্তব্যে উপস্থিত সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, “চিন্তা করবেন না ভাই, আল্লাহ ভরসা। বুকে সাহস রাখেন, মনোবল হারাবেন না।”
সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান তখন বলেন, “এই ওঠানো-নামানোর নাটক কবে শেষ হবে?”
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা সাতটি পৃথক মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ১৬ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কেরানীগঞ্জ, কাশিমপুর ও নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে তাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয়।
এক পর্যায়ে প্রত্যেক আসামিকে পৃথক এজলাসে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে নতুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৮ ডিসেম্বর। পাশাপাশি প্রসিকিউশনকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আরও দুই মাস সময় দেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইনুসহ কয়েকজন আসামির মামলা ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির হন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর আরেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। শুনানি শেষে দুপুরের দিকে তাদের পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে, গত ২০ জুলাই এ মামলার তদন্তে আরও তিন মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন চিফ প্রসিকিউটর। ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করে আজকের দিন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্ধারণ করেছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় প্রসিকিউশন আবারও সময় প্রার্থনা করে, যা আদালত ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত মঞ্জুর করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ