ক্ষুধা দূরীকরণের চেয়ে অস্ত্রখাতে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ ব্যয় নৈতিক ব্যর্থতা: ড. ইউনূস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:০৪ AM

ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বিশ্বে ক্ষুধা ও অভাবের মূল কারণ সম্পদের অভাব নয়, বরং অর্থনৈতিক কাঠামোর ব্যর্থতা।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইতালির রোমে বিশ্ব খাদ্য ফোরামের সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি বলেন, ক্ষুধা দূরীকরণের চেয়ে বিশ্বের বিপুল অস্ত্রব্যয় একটি নৈতিক ব্যর্থতা।
ড. ইউনূস তুলে ধরেন, ২০২৪ সালে ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল, অথচ পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করা হয়েছিল। সমস্যা উৎপাদনের নয়, এটি অর্থনৈতিক ও নৈতিক ব্যর্থতা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমরা ক্ষুধা দূর করতে কয়েক বিলিয়ন ডলার জোগাড় করতে পারিনি, অথচ বিশ্ব অস্ত্রের পেছনে ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে ড. ইউনূস বলেন, ছোট ভূমির দেশ বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য ও ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয় নিশ্চিত করছে। ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বিশ্বের শীর্ষ ধান, শাকসবজি ও মিঠাপানির মাছ উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। কৃষকরা ফসল চাষে ২১৪ শতাংশ ঘনত্ব অর্জন করেছেন এবং ১৩৩টি জলবায়ু-সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি মেকানাইজেশনে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, শক্তিশালী খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, শিশুদের খর্বতা কমেছে এবং খাদ্যতালিকা বৈচিত্র্যময় হয়েছে। মাটি, পানি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কৃষি আরও সবুজ হয়েছে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য বিশ্ব নেতাদের ক্ষুধা নির্মূলের অগ্রাধিকারে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো