
শীত এখনো পুরোপুরি নামেনি, কিন্তু অনেকের হাত-পা আগেই ফাটতে শুরু করেছে। চামড়া ওঠা, শুষ্কতা ও চুলকানি যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে আসন্ন শীতের। তবে যদি সারা বছর ধরেই হাত-পায়ে চামড়া ওঠে, সেটিকে শুধু ঋতুভিত্তিক বা সৌন্দর্যের সমস্যা না ভেবে স্বাস্থ্যের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ সমস্যার নাম ‘কেরাটোলাইসিস এক্সফোলিয়াটিকা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণে হতে পারে।
হাত-পায়ের চামড়া ওঠার সম্ভাব্য কারণ:
১. বংশগত বা জিনগত সমস্যা।
২. ত্বকের পুষ্টিহীনতা ও পরিচর্যার অভাব।
৩. পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন)।
৪. রোদে পোড়া বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগা।
৫. ঘন ঘন হাত ধোয়া বা রাসায়নিকের সংস্পর্শ।
৬. শুষ্ক ত্বক বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
৭. একজিমা, এরিথ্রোডার্মা বা ত্বকের অন্যান্য রোগ।
৮. দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
তবে চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে ভিটামিনের ঘাটতি।
কোন কোন ভিটামিনের অভাবে এই সমস্যা দেখা দেয়? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
ভিটামিন এ
ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। অভাবে ত্বক রুক্ষ ও খসখসে হয়ে যায়।
উৎস: গাজর, কুমড়া, পেঁপে, পালং শাক, ডিম, দুধ।
ভিটামিন বি১২
লাল রক্তকণিকা গঠনে সহায়তা করে, স্নায়ু সুরক্ষা দেয়। অভাবে ত্বকের রং পরিবর্তন ও ক্লান্তি দেখা দেয়।
উৎস: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, দই, ছোলা।
ভিটামিন সি
ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও ক্ষত নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
উৎস: লেবু, কমলা, পেয়ারা, আমলকি, টমেটো।
ভিটামিন ডি
ত্বক ও হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। অভাবে ত্বকে ফাটল ও ব্যথা দেখা দেয়।
উৎস: রোদ, ডিমের কুসুম, দুধ, সামুদ্রিক মাছ।
ভিটামিন ই
ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে মৃত কোষের পুনর্জন্ম ঘটায়।
উৎস: বাদাম, অ্যাভোকাডো, সূর্যমুখী তেল, অঙ্কুরিত শস্য।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন বি৩-এর ঘাটতি কিংবা ভিটামিন এ-এর অতিরিক্ত মাত্রা থাকলেও ত্বকে খসখসে ভাব এবং চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
করণীয়:
১. প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার।
২. সবুজ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডিম, দুধ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
৪. অতিরিক্ত সাবান বা কেমিক্যাল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
যদি বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে হাত-পায়ে চামড়া ওঠে এবং ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাজ না হয়, তবে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, সুস্থ ত্বকের জন্য শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, ভিতরের পুষ্টি সবচেয়ে বেশি জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে