
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে সোসাইটির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও করে আন্দোলন করছেন ।
আজ রবিবার (১২ অক্টোবর) এ আন্দোলনের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি চেয়ারম্যান সমর্থকরা কার্যালয়ে অবস্থান করেন। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ভবনের ভেতরে পুলিশ, সাংবাদিক, আন্দোলনকারী এবং চেয়ারম্যানপন্থি কর্মচারী সবাই উপস্থিত রয়েছেন, ফলে পুরো এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আজিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।
অন্যদিকে, রেড ক্রিসেন্টের যুব বিভাগের উপ-পরিচালক মুনতাসির মাহমুদ বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর এই চেয়ারম্যানকে আমরা চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। কিন্তু চেয়ারম্যান তার সমর্থক কর্মকর্তাদের দিয়ে আমাদের মোকাবিলা করতে পুলিশ এনে দমন করার চেষ্টা করছেন।
এর আগে গত বুধবার সকাল থেকে রেড ক্রিসেন্টের সদর দপ্তরে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী চেয়ারম্যানের দপ্তর ঘেরাও করে স্লোগান দেন। এমনকি চেয়ারম্যান অফিস ত্যাগের সময় তার গাড়ি ঘিরেও প্রতিবাদ জানানো হয়।
সংগঠনের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যোগ্য কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সরিয়ে তার ঘনিষ্ঠ মহলকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি বিতর্কিত ও দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতিকেও পরিচালক বানিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকির ঘটনাও ঘটেছে। রেড ক্রিসেন্টের ইতিহাসে এমন বিতর্কিত চেয়ারম্যান আর আসেনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে চেয়েছি, কিন্তু আমাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের এনে আমাদের দমন করার চেষ্টা চলছে।
মুনতাসির মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগপন্থিদের পুনর্বাসন শুরু করেছেন। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সমর্থকদের সদর দপ্তর থেকে সরিয়ে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে হেডকোয়ার্টারের সব পরিচালকই তার ঘনিষ্ঠ ও রাজনৈতিকভাবে একপক্ষীয়।
তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় আমাকে তার অফিসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।