
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহোৎসব শেষের পথে। গতকাল মহানবমীতে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণে ভক্তরা দেবী দুর্গার উদ্দেশে অঞ্জলি দেন। নবমীর পূজা ও সন্ধ্যা আরতির মধ্য দিয়ে মণ্ডপগুলোতে শুরু হয় বিদায়ের সুর। আজ বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে ভক্তরা দেবীর বিদায় উৎসবে অংশ নিতে পারেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, নবমী তিথির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে রাবণ বধের পর শ্রী রামচন্দ্র দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল, যজ্ঞ ও বিশেষ উপাচার্যে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা। ভক্তরা মনে করেন, নবমী পূজার মাধ্যমে মানবসমাজ সমৃদ্ধি ও কল্যাণ লাভ করে।
এই পূজায় শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে দেবীর পূজা সম্পন্ন হয়। নীল অপরাজিতা ফুল নবমী পূজার অন্যতম অনুষঙ্গ। পূজা শেষে দেবীর উদ্দেশে ১০৮টি বেলপাতা, আম কাঠ ও ঘি দিয়ে যজ্ঞে আহুতি দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবীর কৃপা লাভের প্রার্থনা করেন।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালীমন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। শিশু থেকে প্রবীণ— সবাই নতুন পোশাকে যোগ দিয়েছেন পূজার আনন্দে। সন্ধ্যার পর মণ্ডপগুলোতে ভিড় আরও বেড়ে যায়, ফলে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত বরুণ চক্রবর্তী জানান, বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ ও পরে ‘দর্পণ বিসর্জনের’ মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি ঘটবে। দশমী পূজায় প্রতিমার হাতে পান, শাপলা, জরা ও ফুল দিয়ে আরাধনা করার নিয়ম রয়েছে। এরপর দেবীকে বিদায় জানানো হবে বিসর্জনের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানিয়েছেন, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আজ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সদরঘাটে গিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনও শুভেচ্ছা জানায়। দুর্গোৎসব উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি রয়েছে। গতকালও ছুটি থাকায় সরকারি চাকরিজীবীরা চার দিনের টানা ছুটি উপভোগ করছেন। সব মিলিয়ে উৎসব ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দ ও ভক্তিমুখর পরিবেশ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ