
সংগৃহীত ছবি
খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সংঘাতের পর এখনো কাটেনি আতঙ্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টা থেকে শিথিল করা হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা সড়ক অবরোধ। জুম্ম ছাত্র-জনতা নিজস্ব পেইজ থেকে এ ঘোষণা দেয়।
প্রথমে খাগড়াছড়ি জেলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তিন পার্বত্য জেলায় বিস্তৃত হয় এ অবরোধ কর্মসূচি। সংঘাতের পর থেকে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে রেখেছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আর্মড পুলিশ মাঠে কাজ করছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও গুইমারার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ছিলো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে গুইমারায় সংঘাতে নিহত তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—থোয়াইচিং মারমা (২৫), পিতা হ্লাচাই মারমা, আখ্র মারমা (২৪), পিতা আপ্রু মারমা, আথুইপ্রু মারমা (২), পিতা থোয়াইহ্লাঅং মারমা। নিহতদের লাশ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হলেও ময়নাতদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার রিপল বাপ্পি চাকমা জানিয়েছেন, পুলিশি ক্লিয়ারেন্স না আসায় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ডাকা অবরোধ চলাকালেই শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুপুর ২টা থেকে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।
রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ১৪৪ ধারার মধ্যেই রামসু বাজারে পিকেটিং চলাকালে সেনাবাহিনীর সঙ্গে পাহাড়িদের সংঘর্ষ হয়। পরে তা স্থানীয় বাঙালিদের সঙ্গে সংঘাতে রূপ নেয়। এতে তিন পাহাড়ি নিহত, ১৩ সেনা সদস্য ও ৩ পুলিশ আহত হন। এসময় দুর্বৃত্তরা দোকানপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে।
এরই প্রেক্ষিতে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত কিশোর চয়ন শীলকে আটক করেছে পুলিশ। সে বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তবে অজ্ঞাতনামা আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে অবরোধ অব্যাহত রাখে জুম্ম ছাত্র-জনতা। শনিবার সকাল থেকে অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটির যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেলার ৯ উপজেলার সঙ্গে সদর শহরেরও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, ধর্ষণকারী, নারী নির্যাতনকারী, অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে যেন কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, সেনা ও বিজিবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অবরোধের কারণে শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকায় স্থানীয় বাজারে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১৪৪ ধারা বহাল রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ হলে তা প্রত্যাহার করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো