প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর সংখ্যা নিয়ে টিআইবির বিবৃতি ভুল তথ্যে তৈরি : প্রেস সচিব
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৩ পিএম আপডেট: ২৬.০৯.২০২৫ ১১:৫৯ PM

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সফরে তার সঙ্গে যাওয়া প্রতিনিধিদলের সংখ্যা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক বিবৃতিকে ভুল দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, প্রকৃত সংখ্যা ৬২ জন, যা গত বছরের ৫৭ জনের তুলনায় সামান্য বেশি।
শুক্রবার নিজের ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, টিআইবির বিবৃতিটি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ বছরের প্রতিনিধিদল শেখ হাসিনা আমলের তুলনায় সদস্যসংখ্যায় কম, একই সঙ্গে আরও লক্ষ্যনির্ভর ও পরিশ্রমী।
প্রেস সচিব বলেন, টিআইবি একটি মর্যাদাপূর্ণ সংস্থা হলেও তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে বিবৃতি দেওয়া হতাশাজনক। তিনি জানান, এ প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যেই এক ডজনের বেশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ছয়জনেরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, টিআইবি ভুলভাবে দাবি করেছে যে প্রতিনিধিদলে সদস্য সংখ্যা ১০০ জনের বেশি। বাস্তবে সংখ্যা ৬২ জন। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিরাপত্তা কর্মী, যারা প্রধান উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছ থেকে আসা ক্রমাগত হুমকির কারণে নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সক্রিয় উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিছু মহল সচেতনভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা লাখ লাখ ডলার ব্যয় করে আন্তর্জাতিক মহলে লবিং চালাচ্ছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, এই প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য আসন্ন রোহিঙ্গা সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এছাড়া আমন্ত্রিত তিন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহযোগিতা করার জন্যও কয়েকজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ