বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
যে গ্রামে স্ত্রীরা স্বামীদেরকে আর্সেনিক খাইয়ে হত্যা করেছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:০৯ পিএম

হাঙ্গেরির ছোট শহর সলনোকের আদালতে ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল এক চাঞ্চল্যকর বিচার। এই বিচারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নাগিরেভ গ্রাম। অভিযোগ ছিল, এখানে একের পর এক নারী নিজেদের স্বামীদের খাবারে আর্সেনিক মিশিয়ে হত্যা করেছিল। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ১৯১১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে অন্তত ৫০ জন পুরুষ এভাবে নিহত হন।

এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত নারীরা পরে পরিচিত হন ‘এঞ্জেল মেকার’ নামে। অর্থাৎ যারা স্বামী বা সন্তানকে হত্যা করে পরলোকে পাঠায়। বিচার চলাকালে বারবার উঠে আসে ঝুঝানা ফাজেকাশ নামের এক ধাত্রীর নাম। চিকিৎসা ও রাসায়নিক বিষয়ে জ্ঞান থাকায় তিনি কার্যত গ্রামের চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতেন এবং নারীদের সমস্যার সমাধান হিসেবে দিতেন আর্সেনিক।

ফাজেকাশ নিজেই এই বিষ তৈরি করতেন। যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস জানিয়েছিল, তার বাড়ির বাগান থেকে পুঁতে রাখা বিষের শিশি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কবরস্থান থেকে যখন মরদেহ উত্তোলন করা হয়, তখন ৫০টির মধ্যে ৪৬টি মরদেহেই আর্সেনিকের প্রমাণ মেলে। পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে ফাজেকাশ নিজেই বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন।

১৯২৯ সালে সলনোক আদালতে ২৬ জন নারীকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এর মধ্যে আটজনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়। ধারণা করা হয়, নারীদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে দারিদ্র্য, লোভ, স্বামীদের নির্যাতন, একঘেঁয়েমি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠাই মূল কারণ ছিল।

কেবল নাগিরেভ নয়, আশপাশের শহর থেকেও আর্সেনিকযুক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যদিও সব ঘটনায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। ইতিহাসবিদদের মতে, পুরো অঞ্চলে এভাবে নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যায়।

আজ নাগিরেভের ভয়ংকর ইতিহাস অনেকটাই বিস্মৃত। তবে গবেষক মারিয়া গুনিয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন—এই ঘটনার পর থেকে পুরুষদের স্ত্রীদের প্রতি আচরণে যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছিল।


স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাঙ্গেরি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close