প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:০৯ পিএম

হাঙ্গেরির ছোট শহর সলনোকের আদালতে ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল এক চাঞ্চল্যকর বিচার। এই বিচারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নাগিরেভ গ্রাম। অভিযোগ ছিল, এখানে একের পর এক নারী নিজেদের স্বামীদের খাবারে আর্সেনিক মিশিয়ে হত্যা করেছিল। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ১৯১১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে অন্তত ৫০ জন পুরুষ এভাবে নিহত হন।
এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত নারীরা পরে পরিচিত হন ‘এঞ্জেল মেকার’ নামে। অর্থাৎ যারা স্বামী বা সন্তানকে হত্যা করে পরলোকে পাঠায়। বিচার চলাকালে বারবার উঠে আসে ঝুঝানা ফাজেকাশ নামের এক ধাত্রীর নাম। চিকিৎসা ও রাসায়নিক বিষয়ে জ্ঞান থাকায় তিনি কার্যত গ্রামের চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতেন এবং নারীদের সমস্যার সমাধান হিসেবে দিতেন আর্সেনিক।
ফাজেকাশ নিজেই এই বিষ তৈরি করতেন। যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস জানিয়েছিল, তার বাড়ির বাগান থেকে পুঁতে রাখা বিষের শিশি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কবরস্থান থেকে যখন মরদেহ উত্তোলন করা হয়, তখন ৫০টির মধ্যে ৪৬টি মরদেহেই আর্সেনিকের প্রমাণ মেলে। পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে ফাজেকাশ নিজেই বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন।
১৯২৯ সালে সলনোক আদালতে ২৬ জন নারীকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এর মধ্যে আটজনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়। ধারণা করা হয়, নারীদের হত্যাকাণ্ডের পেছনে দারিদ্র্য, লোভ, স্বামীদের নির্যাতন, একঘেঁয়েমি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠাই মূল কারণ ছিল।
কেবল নাগিরেভ নয়, আশপাশের শহর থেকেও আর্সেনিকযুক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যদিও সব ঘটনায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়নি। ইতিহাসবিদদের মতে, পুরো অঞ্চলে এভাবে নিহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যায়।
আজ নাগিরেভের ভয়ংকর ইতিহাস অনেকটাই বিস্মৃত। তবে গবেষক মারিয়া গুনিয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন—এই ঘটনার পর থেকে পুরুষদের স্ত্রীদের প্রতি আচরণে যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছিল।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ