
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব আলঝাইমার দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শরীরের মতো মস্তিষ্কেরও যত্ন প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়, কিন্তু নিয়মিত কিছু অভ্যাস জীবনে যুক্ত করলে এই অবক্ষয়কে ধীর করা সম্ভব। গবেষকেরা বলছেন, সুস্থ ও তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার মধ্যেই।
সক্রিয় জীবনযাপন
হাঁটা, সাঁতার, যোগব্যায়াম কিংবা সাইকেল চালানো, যেকোনো নিয়মিত ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়, নতুন স্নায়ুকোষের বিকাশ ঘটায়। বিজ্ঞানীদের মতে, মাত্র ছয় মিনিটের উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়ামও আলঝাইমার প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
ঘুমকে গুরুত্ব দিন
গভীর ঘুম শুধু বিশ্রামই নয়, বরং মস্তিষ্কের জন্য পুনর্গঠনের সময়। এ সময় মস্তিষ্ক জমে থাকা ক্ষতিকর বর্জ্য দূর করে। তাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মনোযোগ ও মেজাজের পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি রক্ষায় অপরিহার্য।
শিখতে থাকুন
মস্তিষ্ক নতুন অভিজ্ঞতায় সজীব থাকে। নতুন ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্রে হাতেখড়ি, ক্রসওয়ার্ড কিংবা সফটওয়্যার শেখার মতো কাজ মস্তিষ্কের স্নায়ু সংযোগ বাড়ায়। আজীবন শেখার এই চর্চাই গড়ে তোলে ‘ব্রেইন রিজার্ভ’, যা বার্ধক্যের প্রভাবকে ঠেকিয়ে রাখে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস
সবুজ শাক, মাছ, বাদাম, অলিভ অয়েল ও বেরি মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে উপকারী। এগুলো বয়সজনিত অবক্ষয় ধীর করে। অন্যদিকে প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি প্রদাহ বাড়ায়, যা মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
চাপ সামলান
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ স্মৃতিশক্তি ক্ষয় করে। ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, মননশীলতা বা ডায়েরি লেখা কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমিয়ে মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়। প্রতিদিন মাত্র দশ মিনিটের মননশীল বিশ্রামও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে।
সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা
একাকীত্ব ডিমেনশিয়ার নীরব শত্রু। পরিবার-বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা, নিয়মিত কথোপকথন কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যের যত্ন
অচিকিৎসিত ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল মস্তিষ্কের ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া স্মৃতিশক্তি রক্ষার অন্যতম উপায়।