প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৫৬ পিএম

রংপুর চা এর সামনে এর কর্ণধার আবু সাইদ সেলিম
ঢাকা শহরের যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো দিকে পাঁচ মিনিট হেঁটে কোনো চায়ের দোকান না পাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। রাজধানী শহরে চায়ের দোকানের অভাব নেই। রাস্তায়, ফুটপাতে, অলিগলিতে কোথায় নেই চায়ের দোকান। কোথাও জোট পাকিয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো, কোথাও আবার একটা কি দুটি দোকান। আবার বড় রেস্তোরাঁয়ও পাওয়া যায় চা। শহরের শত শত ধরনের চায়ের মধ্যেই চা-প্রেমীরা খুঁজে নেন তাদের প্রিয় চা। সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যান সেখানে।
অভিজাত গুলশানের চা প্রেমীরা খুঁজে পেয়েছেন তেমন একজনকে। যে চায়ের দোকানের নামানুসারে গুলশানের একটি গলির নাম পরিবর্তন হয়ে যায়। গুলশান ২ এর গোলচত্বরের কাছের গলিতে এর অবস্থান। বলছিলাম রংপুর গলির ‘রংপুর চা’ এর কথা। এই চায়ের দোকানে চা খেতে হলে রীতিমতো লাইন দিতে হয়। গুলশানের অলিগলিতে খুব একটা চায়ের দোকানের দেখা না পাওয়া যাওয়াটাও হয়তো ভিড়ের একটা কারণ। তবে ভিড় ঠেলে চা খেতে মন্দ লাগবে না।
যেহেতু নাম রংপুর, তাই বিশেষ কোনো রং চা আছে কি না জিজ্ঞাসা করতেই বিক্রেতা বললেন, ‘রং মসলা চা খেয়ে দেখতে পারেন।’ বললাম, ‘তাই দিন।’ এই চায়ের চেহারা বেশ লোভনীয়। টি-ব্যাগের রং চায়ে ভাসছে অনেক কিছু: দারুচিনি, লেবু, তিসি, কালিজিরা, তেজপাতার টুকরা, আদা, লং আর এলাচি। সব মিলিয়ে চায়ের কাপে উৎসব উৎসব ভাব। এগুলো সরিয়ে খেতে একটু ঝামেলা, কিন্তু স্বাদ অসাধারণ। সব মিলিয়ে রংপুরে পাবেন প্রায় ৩০ ধরনের চায়ের বেশি। ২০ থেকে শুরু করে পাবেন ২০০ টাকার জাফরান চা-ও। আরও পাবেন ৪/৫ ধরনের ফলের রস এবং কয়েক ধরনের নাশতার পদ।
কথা বলছিলাম রংপুর চায়ের কর্ণধার মোহাম্মদ সেলিমের সাথে তিনি স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান “আমার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা তবে আমি আমার বিভাগ রংপুরের নামে দোকানটির নামকরণ করেছি। আমার জীবনে অনেক সংগ্রামের পর রংপুর চা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ছিলাম লিফটম্যান, হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় পড়ি মহাবিপদে। পরবর্তীতে হাতে ফ্লাক্স নিয়ে গুলশানের ফুটপাতে ঘুরে-ঘুরে চা বিক্রি করি। প্রথম প্রথম একটা কনডেন্স মিল্কের কৌটা ৩ দিনেও শেষ করতে পারতাম না। এখন প্রতিদিন একটি ব্রাঞ্চে গড়ে ৫ হাজার কাপ চা বিক্রি করি। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরা, রংপুর, চট্টগ্রাম সবমিলিয়ে ৭/৮ টি ব্রাঞ্চ আছে। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুত আরো নতুন দুটি ব্রাঞ্চ চালু করবো বলে আশা করি। জীবনে সবসময় নিষ্ঠা অনুসরণ করে ব্যবসা করছি। সবসময় ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি সব সময় নতুন নতুন সুস্বাস্থ্যকর চা ও খাবার আবিস্কারের চেষ্টা করি। চায়ের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের হাল্কা খাবারের আইটেম ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়।”