প্রকাশ: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ৩:১৮ AM

দুর্গম হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা আজ চরম সংকটে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দরিদ্রতা, সামাজিক অসচেতনতা এবং সবচেয়ে বড় সমস্যা, চরম শিক্ষক সংকট। সব মিলিয়ে জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার মোট ১ হাজার ৪৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ১ হাজার টি। এর মধ্যে ৩০০টির বেশি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই, এবং প্রায় ২০টির বেশি বিদ্যালয়ে আছেন মাত্র একজন শিক্ষক। এতে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ATEO) ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ৬৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। এতে পুরো ব্যবস্থাপনাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অভিভাবকদের অসচেতনতা, দুর্গম যাতায়াতব্যবস্থা ও দরিদ্রতার কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমছে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেড়ে চলেছে। অনেক জায়গায় দুই-তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো স্কুলের পাঠদান, কোথাও আবার একজন শিক্ষকই সামলাচ্ছেন শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজ।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সুনামগঞ্জের শিক্ষক সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের এক সেমিনারে সুনামগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার এই করুণ অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়ন ছাড়া হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষক সংকট দূর করে শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম