
সংগৃহীত ছবি
জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়ার ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি ও ভিন্নমত বিশ্লেষণ শুরু করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। একই সঙ্গে সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে আইন ও নীতি-সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করছে কমিশন।
কমিশন সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের পর তৃতীয় ধাপে আবারও দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসা হবে। এর পরেই তৈরি হবে চূড়ান্ত জুলাই সনদ। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সনদ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ওপর আলোচনার পাশাপাশি খসড়ার ভাষাগত যথার্থতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে গ্রুপভিত্তিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়েও প্রস্তাব করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
গত ১৬ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যে খসড়া পাঠানো হয়েছিল, তাতে তিনটি ভাগ রয়েছে—পটভূমি, ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং ৮ দফা অঙ্গীকারনামা। তবে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বেশ কিছু দল অঙ্গীকারনামার কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
বিএনপি বলেছে, জুলাই সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়ার প্রস্তাব অযৌক্তিক। তাদের মতে, আইনবিধি-সংক্রান্ত সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, আর সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার পরবর্তী জাতীয় সংসদে করতে হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনে করে, সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন হলেও বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট রূপরেখা জরুরি।
কমিশনের এক সদস্য বলেন, “আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি খতিয়ে দেখছি এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছি। এগুলো যাচাই-বাছাই শেষে দলগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনা হবে।”
এক সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় ধাপের সংলাপ আগামী সপ্তাহেই শুরু হতে পারে।
কমিশনের বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া মতামত কমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, কোথাও ঘাটতি আছে কি না, তা যাচাই চলছে। খুব শিগগিরই অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে।”