
সংগৃহীত ছবি
নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে যুবকের বিয়ের সামর্থ্য আছে, সে বিয়ে করবে, কেননা বিয়ে চোখকে সংযত রাখে ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। যার সামর্থ্য নেই, সে রোজা রাখবে, যা যৌবনের বাসনা কমিয়ে দেয়। (বোখারি : ৫০৬৫, মুসলিম : ১৪০০)
বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা মাস নেই; সামর্থ্য থাকলে দেরি না করে বিয়ে করা উত্তম। তবে বর্তমান সময়ে ভালো পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করা জটিল। তাই নবীজির (সা.) সুন্নত অনুযায়ী বিয়ের আগে পাত্র/পাত্রীকে ভালোভাবে দেখা ও যাচাই করা উচিত।
যদিও অনেক সময় হবু স্বামী বা স্ত্রী পছন্দমতো কথাবার্তা শুরু করেন, মাদরাসাতুত তাকওয়া ঢাকা’র মুফতি শায়খ ইবনুল কালাম জানান, বিয়ের আগে হবু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সরাসরি কথাবার্তা সাধারণভাবে জায়েজ নয়। তবে জরুরি বিষয় জানার জন্য সংযত ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে সীমিত কথোপকথন করা যায়। বিয়ের কথাবার্তা পাকাপোক্ত হলে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করাই উত্তম। (ফাতওয়ায়ে শামী : ৯/৫৩০, ফাতওয়ায়ে রহিমিয়া : ১০/১২৬)
দ্রুত বিয়ের জন্য কোরআনি আমল
দোয়া:
প্রতিদিন নামাজের পর বা যেকোনো সময় পড়া যায়:
রব্বানা হাব লানা…
উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউন, ওয়া জাআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা চোখ শীতলকারী হবে।
ফজরের নামাজের পর আমল:
যেসব যুবক-যুবতী বিয়ে করতে চান কিন্তু সুযোগ পাননি, তারা প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর নির্দিষ্ট হাতের কব্জি চেপে ৪০ দিন ধরে আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘ইয়া ফাত্তাহু’ পড়তে পারেন।
সুরা তাওবা পাঠ:
فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ...
অর্থ: যদি তারা বিমুখ হয়, তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট।
সুরা কাসাস পাঠ:
ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা…
উচ্চারণ ও অর্থ: হজরত মুসা (আ.) একাকীত্ব ও বিষণ্নতার সময় এটি পড়তেন; দ্রুত বিয়ের জন্য কার্যকর।
সুরা ইয়াসিন পাঠ:
প্রতিদিন সকালে সূর্যোদয়ের সময় পশ্চিমমুখী হয়ে সুরা ইয়াসিন পাঠ করুন। প্রতিবার ‘মুবিন’ শব্দ উচ্চারণ করলে শাহাদাত আঙুল দিয়ে সূর্যের দিকে ইশারা করুন।
সুরা দোহা পাঠ:
দ্রুত বিয়ের জন্য প্রতিদিন ১১ বার সুরা দোহা পড়ার আমলও কার্যকর।