প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫, ৪:৪৬ পিএম

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের খিরাচক গ্রামে প্রায় চার দশক আগে নির্মিত একটি ছোট্ট সেতু এখন ২০ গ্রামের মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুটির চারটি পিলারের মধ্যে একটি নেই, বাকি তিনটিও নড়বড়ে। বহু আগেই সেতুর রেলিং ভেঙে গেছে।
এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে সামান্য রেলিং তৈরি করেছেন, তবুও প্রতিদিন হাজারো মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান বলেন, “সেতুটি বছরের পর বছর বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। নৌকা চলাচলের সময় পিলারে ধাক্কা লেগে সেতুটি আরও দুর্বল হচ্ছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
খিরাচক গ্রামের দিনমজুর মনসুর আলী জানান, “সেতুর কারণে গাড়ি আনা যায় না। রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে হেঁটে বা কোলে করে নিতে হয়, যা ভীষণ কষ্টকর।” একই এলাকার আমেনা বেগম বলেন, “অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় অনেক সময় মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।”
খিরাচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, “প্রতিদিন স্কুলের শিশুরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হয়। প্রশাসনের কাছে বারবার জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম জানান, “ব্রিজে উঠলেই ভয় লাগে। মনে হয় পড়ে যাব।” আরেক ছাত্রী সাবিকুন নাহার বলেন, “পিলারগুলো ভেঙে গেছে। আমরা ভয় পাই। কেউ দেখে না কেন?”
ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, সেতুটি বিদেশি ফান্ডে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা আর হয়নি। ২০-২৫ গ্রামের মানুষ এই সেতুর কারণে দুর্ভোগে আছে। বিকল্প পথ না থাকায় গোবিন্দপুরের মানুষ উপজেলায় যেতে টিএনটি মোড় হয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।
মেঘনা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিয়াজ উদ্দিন বলেন, “সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। কাছাকাছি আরও একটি সেতুও জরাজীর্ণ, যেখানে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার হচ্ছে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন হয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ