
সংগৃহীত ছবি
আমরা অনেক সময় এমন খাবার খাই, যেগুলোতে লুকিয়ে থাকে প্রচুর চিনি। সকালের সিরিয়াল, প্রোটিন বার, ফলের জুস, টমেটো সস বা ক্যানজাত ফল—এসব খাবার দেখতে মিষ্টি লাগে না। তাই আমরা বুঝি না, দৈনন্দিন জীবনেই কতটা চিনি আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে।
চিনি শুধু মিষ্টিতে নেই
অনেকে মনে করেন চিনি শুধুই ডেজার্ট বা মিষ্টিতে থাকে। কিন্তু বাস্তবে প্রক্রিয়াজাত খাবারে লুকিয়ে থাকে ‘হিডেন সুগার’ বা লুকানো চিনি, যা অতিরিক্ত হলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ভারতের গুরগাঁওয়ের সিকে বিরলা হাসপাতালের প্রধান নিউট্রিশনিস্ট প্রাচি জৈন জানান, পশ্চিমা ধাঁচের খাবার, প্যাকেটজাত ও প্রস্তুত খাবারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় মানুষ অতিরিক্ত চিনি খাচ্ছে। এর ফলে ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধি, হরমোন সমস্যা, এমনকি প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে।
কোন কোন খাবারে লুকিয়ে থাকে চিনি?
প্রাচি জৈন জানান, দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে খাবারগুলো খাই, সেখানে লুকানো চিনি থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:
নাশতার সিরিয়াল
টমেটো সস
ফলের জুস
ক্যানজাত ফল
কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্য
এগুলোতে মিষ্টির স্বাদ বেশি না থাকার কারণে আমরা সহজে বুঝতে পারি না, কতটা চিনি গ্রহণ করছি।
কীভাবে বুঝবেন খাবারে কত চিনি আছে?
খাবারের প্যাকেটের ‘নিউট্রিশন লেবেল’ ভালোভাবে পড়া প্রয়োজন। এতে লেখা থাকে উপাদানের তালিকা এবং প্রাকৃতিক ও যোগ করা চিনির পরিমাণ। নিয়মিত লেবেল দেখা আমাদের চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং অতিরিক্ত চিনি এড়াতে করতে হবে কিছু সতর্কতা:
১. প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার আগে লেবেল পরীক্ষা করুন।
২. যতটা সম্ভব তাজা ও ঘরে তৈরি খাবার খান।
৩. বেকারি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
অতিরিক্ত চিনি ওজন বাড়ায়, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম