প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫, ২:৪৮ পিএম আপডেট: ০৬.০৮.২০২৫ ২:৫৯ PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে শিবিরের প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেও চলছে ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই প্রদর্শনী’। তবে বিতর্কিত ছবিগুলো অপসারণ করে সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার উক্তি, বিচারকার্যের নানা অসঙ্গতি এবং ভুয়া সাক্ষীদের জবানবন্দির ছবি টাঙানো হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) প্রদর্শনীর পাশাপাশি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পলায়নের এক বছর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন পুসাব-এর প্রতিনিধি সাদিক আল আরমান, জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ প্রমুখ।
সেমিনার ছাড়াও টিএসসি প্রাঙ্গণে যথারীতি চলছে শিবিরের প্রদর্শনী। কেবল বিতর্কের জন্ম দেওয়া জামায়াত নেতৃবৃন্দের ছবিগুলো সরানো হয়েছে। তার জায়গায় যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে ২০১১ সালে বেগম জিয়ার উক্তি, স্কাইপ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের তালিকা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ভুয়া সাক্ষীদের জবানবন্দির প্ল্যাকার্ড টাঙানো হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে শিবিরের প্রদর্শনী বন্ধের দাবি জানিয়েছিল বাম সংগঠনগুলো। এ নিয়ে শিবির ও বামপন্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান হয়। পাশাপাশি, ‘এক নারীকে আপত্তিকরভাবে ভিডিও ধারণ করছে’-এমন অভিযোগ এনে এক শিবিরকর্মীকে ধাওয়া দিয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছে।
তবে, তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে কোনো মবের কারণে প্রদর্শনী বন্ধ হবে না বলে ঘোষণা দেন ঢাবি শাখা শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ।
প্রদর্শনীতে বিতর্কিত ছবি রাখার বিষয়ে শিবিরকে জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাবির প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মিটিং করবে এবং শিবিরের কাছে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। তবে প্রদর্শনী বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম