প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৪৯ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্বামীকে অপহরণ করিয়ে ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার ঘটনায়, ৯৯৯ এর সহযোগিতায় স্ত্রীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রাম থেকে জিম্মি থাকা অবস্থায় স্বামী রহিম মিয়াকে উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের এই চক্রের নেতৃত্ব দেওয়া মূল হুতা রাকিব হোসেন (১৮) পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:- উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে হাসান মোল্লা (৩৪), মীর দেওহাটা গ্রামের মৃত আতোয়ার হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৫), রহিম সিকদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৪), কোদালিয়া গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে মো. রানা (২০), বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের মঙ্গল সিকদারের ছেলে আরিফ (৩৩) ও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন তালচানা গ্রামের আলকেস এর কণ্যা আকলিমা বেগম (৪০)।
পুলিশের তথ্য মতে জানা যায়, একই ইটভাটায় কাজের সূত্রে অপহরণের শিকার আব্দুর রহিমের সাথে গ্রেপ্তার আকলিমা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং একপর্যায়ে তারা বিয়ে করেন।
ইটভাটার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আব্দুর রহিম তার নিজ এলাকায় চলে যায়। সেখানে তার আরেক স্ত্রী রয়েছে জানা যায়। আকলিমার সাথে ৬ থেকে ৭ মাস ধরে আব্দুর রহিমের যোগাযোগ না করায় তাকে হয়রানি করার ব্যবস্থা করেন আকলিমা। ফোন করে তাকে মির্জাপুরে আসতে বলেন তিনি। আব্দুর রহিম মির্জাপুরে আকলিমার ভাড়া বাসায় আসার পরপরই এ মামলায় পলাতক তরুনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার হওয়া অন্য সদস্যরা আব্দুর রহিমকে মারধর করেন। অন্য একটি বাড়িতে নিয়ে জিম্মি করেন।
এরপর রহিমের স্বজনদের কাছে ফোন করে ৪ লাখ টাকা দাবি করা হয়। জিম্মি আব্দুর রহিমের স্বজনরা ৯৯৯ এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটির নেতৃত্ব দিতো। কিন্তু অন্তরালে তারা বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজি করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহরণের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর শনিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম