| শিরোনাম: |

সংগৃহীত ছবি
নির্ভরশীলতা অর্জনে মিতব্যয় ও সঞ্চয়ের অভ্যাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে মনে রাখা জরুরি, সঞ্চয় এবং কৃপণতা এক জিনিস নয়। এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা কিংবা কৃপণতাকে সঞ্চয় হিসেবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃপণতা এমন এক নেতিবাচক স্বভাব যা মানুষকে নিজের প্রয়োজনেও ব্যয় করতে নিরুৎসাহিত করে। কেউ কেউ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কষ্ট সহ্য করেন, অথচ কারও জানা নেই তার আয়ু কতদিন— ভবিষ্যতে কতটুকু সময় জীবিত থাকবেন।
অনেকে কৃপণতাকে সঞ্চয় মনে করে অভাবগ্রস্তদের সহায়তা করা থেকে বিরত থাকেন, যা ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী। কেননা, ইসলামে অন্যের উপকারে এগিয়ে আসাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন, যে তার বান্দাদের প্রতি দয়া করে।” (বুখারি, হাদিস: ১৭৩২) আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, “আল্লাহ বান্দার সাহায্যে ততক্ষণ থাকেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।” (মুসলিম, হাদিস: ২৩১৪)
রাসুল (সা.) কৃপণদের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন বলেন: হে আল্লাহ! ব্যয়কারীদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন। আর অন্যজন বলেন: হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।” (বুখারি, হাদিস: ১৪৪২)
আরও একটি হাদিসে তিনি বলেন, “তোমরা কৃপণতা থেকে নিজেকে রক্ষা করো। কারণ, পূর্ববর্তী জাতিগুলোকে কৃপণতাই ধ্বংস করেছে। কৃপণতা তাদেরকে কৃপণ হতে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে ও অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে প্ররোচিত করেছে।” (আবু দাউদ, হাদিস: ১৬৯৮)
পবিত্র কোরআনেও কৃপণতাকে নিন্দা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“যারা নিজেরা কৃপণতা করে, অন্যদেরকেও কৃপণতা করতে বলে এবং আল্লাহ যে অনুগ্রহ তাদের দিয়েছেন, তা গোপন করে— তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।”
(সুরা নিসা, আয়াত: ৩৭)
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম