
২ হাজার ৮শ ৪০ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পাঁচ বছর মেয়াদি অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ বছর মেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয়ের "অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের" বিস্তারিত রূপকল্প প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিক সুবিধাদি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।
যা যা থাকছে এই প্রকল্পে:
১. একাডেমিক ভবন নির্মাণ ৬টি;
২. ২৬০০ জন ছাত্রীর জন্য ৪টি আবাসিক হল নির্মাণ।
৩. ৫১০০ জন ছাত্রের জন্য ৫টি আবাসিক হল নির্মাণ।
৪. শিক্ষক ও অফিসারদের জন্য ২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ।
৫. অন্যান্য ভবন (প্রশাসনিক ভবনসহ) নির্মাণ-৫টি।
৬. ৪টি জলাধার সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধন।
৭. বিদ্যমান সার্ভিস লাইন মেরামত/সংস্কার।
৮. কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ উন্নয়ন।
৯. ২টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ।
১০. ড্রেনেজ সিস্টেম ও ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, ২৫৬ টি ওয়েস্টবিন স্থাপন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মোট বরাদ্দের প্রায় ৪০ শতাংশ ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য হল ও আবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে। এছাড়াও, একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ১৬ শতাংশ। কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার, মেডিক্যাল সেন্টার, ডাকসু ভবন ও জিমনেসিয়াম ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে মোট বরাদ্দের ১৭ শতাংশ। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের পেছনে ব্যয় হবে ১০ শতাংশ। জলাধার, ড্রেনেজ সিস্টেম, রোড নেটওয়ার্ক ইত্যাদির পিছনে অবশিষ্ট টাকা ব্যয় করা হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাবি উপাচার্য বলেন, 'আমাদের এই উন্নয়ন প্রকল্প কেবল অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, বরং এটি পড়াশোনা ও গবেষণার মান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এর ফলে একাডেমিক নানা সুযোগ সুবিধা তৈরি হবে।'
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরে লাইব্রেরিসহ বেশ কিছু সুযোগ সুবিধা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটা আমাদের জাতীয় উপহার। জাতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেজন্য আমরা কেবল দেখভালের দায়িত্বে থাকবো কিন্তু এসব ফ্যাসিলিটিজ যে কেউ ভোগ করতে পারবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ