
সংগৃহীত ছবি
দেশের চারটি সরকারি কলেজ ও ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব নাম থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ রাসেলসহ আওয়ামী লীগ ঘরানার বেশ কয়েকজন নেতার নাম বাদ দিয়ে নতুনভাবে নামকরণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৯ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-৪ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির এক চিঠির আলোকে এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ অধিশাখার পরামর্শ অনুযায়ী গৃহীত হয়েছে।
নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ও ভৌগোলিক নাম ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন, বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের নতুন নাম হয়েছে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, বরিশাল। খুলনার সরকারি জয়বাংলা কলেজ এখন খুলনা সরকারি কলেজ নামে পরিচিত হবে। ভৈরবের জিল্লুর রহমান সরকারি মহিলা কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজ, আর কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সরকারি কলেজ এখন ইটনা সরকারি কলেজ নামে পরিচিত হবে।
এছাড়া, বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের শেখ হাসিনা ছাত্রীনিবাসের নাম বদলে রাখা হয়েছে বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রীনিবাস। ঢাকা কলেজের শেখ কামাল হলের নতুন নাম বিজয় ২৪, শেখ জামাল একাডেমিক ভবনের নাম হয়েছে জুলাই ৩৬ একাডেমিক ভবন। শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শেখ রাসেল ছাত্রাবাসের নতুন নাম শহীদ মামুন ছাত্রাবাস। তিতুমীর কলেজের ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন এখন নতুন বিজ্ঞান ভবন নামে পরিচিত হবে।
বিভিন্ন কলেজের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীনিবাস নামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন, রাজবাড়ী সরকারি কলেজে এটি এখন তাপসী রাবেয়া ছাত্রীনিবাস নামে পরিচিত হবে। দিনাজপুর সরকারি কলেজে নাম রাখা হয়েছে ছাত্রীনিবাস-৩। এছাড়া নরসিংদী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, যশোর, পাবনা ও সন্দ্বীপের বিভিন্ন কলেজেও একই ধরণের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ নামকরণে আনা হয়েছে, যাতে সকল শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিষ্ঠানগুলো একইরকম গ্রহণযোগ্যতা পায়।