প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫, ১০:০২ পিএম

সংগৃহীত ছবি
নবী সুলাইমান (আ.)-এর সময় ইহুদি জাতির মধ্যে যাদু ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। তারা যাদুবিদ্যা অর্জনে আগ্রহী ছিল এবং যাদু, কারামত ও মুজিযার মধ্যে পার্থক্য না করে সবকিছুকেই একাকারভাবে যাদু বলে দাবী করত।
তখন আল্লাহ তায়ালা দুটি ফেরেশতা হারুত ও মারুতকে পাঠান। তাঁদের দায়িত্ব ছিল মানুষকে যাদুর প্রকৃতি ও যাদু, কারামত ও মুজিযার পার্থক্য শেখানো। তাঁরা প্রত্যেককে স্পষ্টভাবে বলতেন, “আমরা এক পরীক্ষামাত্র, সুতরাং এই জ্ঞান ব্যবহার করে কুফরির পথে পা দিয়ো না।” তারপরও অনেকেই সেই জ্ঞানকে অপব্যবহার করে যাদুতে লিপ্ত হয়ে পড়ত।
হারুত ও মারুত সম্পর্কে কোরআনে এ ছাড়া আর কিছু বলা হয়নি। সহিহ হাদিসেও তাঁদের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই। তবে বিভিন্ন তাফসির গ্রন্থ ও লোকমুখে তাঁদের নিয়ে কিছু কাহিনী প্রচলিত আছে। এসব গল্পের সারমর্ম হলো মানবজাতির অপরাধ দেখে ফেরেশতারা আল্লাহকে বলেন, মানুষ এত পাপ করে কেন? আল্লাহ তাঁদের উত্তর দেন, যদি তোমাদেরও মানুষের মতো প্রবৃত্তি দেওয়া হতো, তবে তোমরাও এমন পাপ করতে। তখন হারুত ও মারুতকে মানবীয় প্রবৃত্তি দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। এখানে এসে তাঁরা জোহরা নামের এক অপরূপ সুন্দরীর প্রেমে পড়ে মদপান, ব্যভিচার ও হত্যা করেন। পরে জোহরা তাঁদের কাছ থেকে মন্ত্র জেনে আকাশে উড়ে গিয়ে একটি তারা হয়ে যান।
এই ধরনের কাহিনীগুলো মূলত ইহুদি উৎস থেকে আসা এবং হাদিসের নামে বা তাফসিরের ব্যাখ্যা হিসেবে প্রচারিত। অধিকাংশ মুহাদ্দিস এই বর্ণনাগুলিকে জাল বা অতিশয় দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। তবে কেউ কেউ কয়েকটি সূত্রকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন, যদিও সেটি বিরল।
কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
“তারা (ইহুদিরা) শয়তানদের অনুসরণ করেছিল, যারা সুলাইমানের রাজত্বকালে যাদু শেখাত। সুলাইমান কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই করেছিল। তারা মানুষকে যাদু শেখাত এবং যা বাবিল শহরে হারুত ও মারুত নামক দু’জন ফেরেশতার ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল, তাও শেখাত। অথচ তারা কাউকে শিক্ষা দিত না, এই সতর্কতা না করে—‘আমরা শুধু পরীক্ষা, সুতরাং কুফরি করো না।’” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১০২)