প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫, ৪:২১ পিএম

কুমিল্লা তিতাস উপজেলার চারপাশে রয়েছে গোমতী, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী। বর্ষায় এ নদী গুলোর পানি বৃদ্ধি পেলে খুব দ্রুতই খাল-বিল, চক ও নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়। তখন মানুষের যাতায়াতসহ মাছ ধরার একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে নৌকা। কিন্তু এবছর আষাঢ় মাসের মাঝামাঝিতেও পানির দেখা না মেলায় ভাটা পড়েছে নৌকার চাহিদায়। ফলে তৈরি করা নৌকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে বেচাবিক্রি না হওয়ায় লোকসান হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন হাটের ইজারাদারও।
সরেজমিনে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাতাকান্দি বাজারের নৌকার হাটে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নৌকাগুলো। ক্রেতা না থাকায় অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। প্রতি বুধবার বসে এই হাট। এ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে নৌকা বেচাকেনা, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে ক্রেতা বিক্রেতা। নৌকার আকার ও মানের ওপর নির্ভর করে দাম। পাঁচ হাত থেকে শুরু করে ১২ হাত নৌকা সাড়ে তিন হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিকিকিনি হচ্ছে। তবে এবার নৌকার দাম কিছুটা কম বলে জানান বিক্রেতারা।
হোমনা উপজেলার উবদি গ্রামের মালেক মিয়া মাছ শিকার ও ছাগলের ঘাস কাটার জন্য নৌকা কিনতে এসে তিনি বলেন, ‘আগে না কিনলে বর্ষার সময় বেশি দামে কিনতে হবে। তাই আগেই নৌকা কিনতে চলে এসেছি, তবে নৌকার দাম কিছুটা কম হলেও মান ভালো না। এক নৌকা আগে ৫ থেকে ১০ বছর ব্যবহার করতে পারলোও এখনকার নৌকা এক বছর বেশি ব্যবহার করা যায় না।’
পাশ্ববর্তী উপজেলা হোমনার ডুমুরিয়া থেকে হাটে আসা রঞ্জিত ও গোপাল দাসসহ একাধিক নৌকার বেপারী বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ একটি নৌকাও বিক্রি করতে পারি নাই, ক্রেতা একেবারে নাই। দু’একজন আসলেও তারা নির্মাণ খরচের চাইতে নৌকার দাম কম বলছে। ফলে এবার নৌকা বানিয়ে হতাশায় পড়েছেন বিক্রেতারা। ধার দেনা করে কাঠ কিনে নৌকা বানিয়ে লোকসান আতংকে নৌকার বেপারীরা।’
নৌকা কম বিক্রির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, ‘আষাঢ়ের শুরুতে নদ-নদি, খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানিতে থইথই থাকলেও এবছর আষাঢ়ের শেষেও নেই পানির দেখা। ফলে নৌকার হাটে আসছে না নিম্নাঞ্চলের মানুষ। এছাড়াও অপরিকল্পিত ভাবে খাল-বিল দখল ও ভরাটসহ নানা কারণে এখন আর আগের মতো নৌকার ব্যবহার হচ্ছে না। তাই নৌকা বিক্রি কমে গেছে।’
এদিকে হাটে নৌকা বিক্রি না হওয়ায় হাট ইজারাদারও ইজারার টাকা তোলা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম