নিয়মিত খাওয়াদাওয়া না করার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়—কেউ সময়ের অভাবে, আবার কেউ ওজন কমানোর আশায় দিনের একটি বা একাধিক বেলা খাবার এড়িয়ে চলেন।
কেউ কেউ মনে করেন, এতে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে বা স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। কিন্তু বাস্তবতা কী?
চলুন জেনে নেওয়া যাক, খাবার খাওয়া বা না খাওয়ার ফলে শরীরের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
খাবার খেলে শরীরে কী ঘটে?
খাবার গ্রহণের পর শরীর কার্বোহাইড্রেটসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানকে ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তর করে, যা রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তখন অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়, যা এই গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশ করিয়ে শক্তি হিসেবে ব্যবহার বা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখে।
খাবার বাদ দিলে কী ঘটে?
বিশেষ করে সকালের নাস্তা বাদ দিলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় বেশি প্রভাব পড়ে। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তা এড়িয়ে গিয়েছিলেন, তাদের লাঞ্চের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
অর্থাৎ, সকালের খাবার না খাওয়ার ফলে শরীর রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি প্রিডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২০২০ সালের আরেকটি গবেষণায়ও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দেখা গেছে, নাস্তা বাদ দিলে তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছে যায়।
লাঞ্চ বা ডিনার বাদ দিলে কী হয়?
লাঞ্চ বা রাতের খাবার না খেলেও রক্তে গ্লুকোজের কিছুটা প্রভাব পড়ে, তবে তা সকালের মতো তীব্র হয় না। কারণ, সকালের খাবার দিনের মেটাবলিজম শুরু করে দেয়। এটি বাদ দিলে দিনের বাকি সময় রক্তচিনির প্রতিক্রিয়াও অস্থির থাকে।
ওজন কমাতে সময়নির্দিষ্ট উপবাস বা হেলদি ক্যালরি কন্ট্রোল উপকারী হতে পারে। তবে একেবারে খাবার বাদ দেওয়া, বিশেষ করে সকালের নাস্তা না খাওয়া, শরীরের রক্তচিনির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য তো বটেই, এমনকি সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও সঠিক সময়ে পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ওজন কমাতে হলে খাদ্য বাছাই ও পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ জরুরি, তবে খাবার এড়িয়ে যাওয়া নয়।
সূত্র: জিও নিউজ