প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫, ১২:২৪ পিএম আপডেট: ১৫.০৭.২০২৫ ১২:৫১ PM

নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে জলাবদ্ধতা, হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কগুলো এখনও পানির নিচে। অনেক বাড়ির আঙিনায় কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকেই নিজেদের কর্মস্থলে যেতে পারছেনা ফলে বেড়েছে দুর্ভোগ।
বৃষ্টির পানিতে পুকুর-নালার পানি ভরেগেছে , খাবার উপযোগী পানিতে পুকুর-নালার পচা পানি মিশে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে না পারায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পরেছেন।
বিপর্যয় নেমে এসেছে কৃষি খাতেও। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমনের বীজতলা, আউশের ক্ষেত এবং গ্রীষ্ম-শরৎকালীন শাকসবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গাছের গোড়া পচে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পোকামাকড় ও নানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে আমন বীজের দাম অনেক বেড়ে গেছে, ফলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসানের মুখে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত (৭ জুলাই) থেকে নোয়াখালীতে শুরু হওয়া টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে জেলার ছয়টি উপজেলার অন্তত ৫৭টি ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন ১৮ হাজার পরিবার এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫২ হাজার মানুষ। এছাড়া কবিরহাট, সেনবাগ ও সুবর্ণচর উপজেলায় আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৭টি বসতঘর।
সুবর্ণচর উপজেলার কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘চারদিক পানিতে তলিয়ে থাকায় নতুন করে বীজতলা তৈরি করার মতো উঁচু জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুঁজির অভাবে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে পারছি না। আকস্মিক এ দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এছাড়া ফলন্ত সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ধার-দেনা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।’
মো. দেলোয়ার হোসেন নামের পৌরসভার বাসিন্দা বলেন, ‘বৃষ্টির পানি পৌরসভা এলাকার কিছু উঁচু অংশ থেকে নেমে গেলেও রোববারের বৃষ্টিতে আবারও পানিতে ডুবে গেছে অনেক এলাকা। বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত আমরা সাধারণ জনগন, এখন সরকারি সহায়তা ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি জানাচ্ছি।
জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, নোয়াখালীতে আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে দিনরাত কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার মৎস্য খামারির মাছের ঘের ভেসে গেছে। ৬ হাজার ২৬০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমরা ৯৮৪ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১৬ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ টাকা বিতরণ করেছি। আরও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকননো খাবার, ৪৮৪ টন চাল ও ১২ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে