
ফাইল ছবি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বেতন কাঠামো উন্নীত হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় বাড়বে ৩৪১ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪০ টাকা।
সোমবার (১৪ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
সূত্র জানায়, ডিপিই থেকে পাঠানো প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। অনুমোদন মিললে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এর আগে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানানো হয়, দেশের প্রায় ৩০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, রিট পিটিশন নম্বর-৩২১৪/২০১৮ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে রিটকারী ৪৫ জন প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। রায় বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগ সম্মতি দিয়েছে। একইসঙ্গে বাকি প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।
এ সিদ্ধান্তের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, “সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমাদের দাবি ছিল—সকল প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে উন্নীত করা এবং সহকারী শিক্ষকদের একাদশ গ্রেড বাস্তবায়ন। এ দাবিগুলো সরকার যে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে, তা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।”
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশিক্ষিতদের জন্য ১১তম এবং অপ্রশিক্ষিতদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তৎকালীন সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজসহ ৪৫ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন।
২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ৪৫ জন শিক্ষককে দশম গ্রেড দেওয়ার এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলেও তা ২০২২ সালের জানুয়ারিতে খারিজ হয়। পরবর্তীতে করা রিভিউ আবেদনও বাতিল করে আদালত।
এদিকে, দশম গ্রেড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কিছু দালাল চক্র চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা ফৌজদারি অপরাধ। চাঁদাবাজদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের কোনো অর্থ খরচ করার প্রয়োজন নেই। আমরা কোনো আর্থিক সংশ্লেষ ছাড়া সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে কাজ করছি। শিক্ষকরা যেন প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য সচেতন থাকতে হবে।”
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর