প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫, ১২:৪৮ পিএম

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে টানা চার মাস ধরে। কোনো প্রকার সরকারি ঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই চলমান এই অচলাবস্থায় মিলছে না রাজস্ব, ধ্বংস হচ্ছে পণ্য, আর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দেড় হাজার শ্রমিক।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুরো বন্দর পড়ে আছে ফাঁকা। মাঠে নেই কোনো পণ্য মজুত। নাফ নদীর জেটিতেও নেই পণ্যবোঝাই ট্রলার কিংবা জাহাজ। নেই ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। তালাবদ্ধ গোডাউনের সব দরজা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মিয়ানমারে রপ্তানির জন্য মজুত করা তাদের কোটি টাকার সিমেন্ট ও আলু নষ্ট হয়ে গেছে। কি কারণে সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ হলো, কিছুই জানেন না তারা। বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক।
তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যের দখলদার আরাকান আর্মির সম্মতি না পাওয়ায় পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। মিয়ানমার থেকেও কোনো পণ্য টেকনাফ স্থলবন্দরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।
টেকনাফ স্থল বন্দরের শ্রমিক সর্দার আলম বলেন, ‘টেকনাফ স্থল বন্দরে দেড় হাজার শ্রমিক আছে। ৪-৫ মাস ধরে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমরা সবাই বেকার। অর্থাভাবে পরিবার নিয়ে সবাই কষ্টে আছে।
টেকনাফ স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সোহেল উদ্দিন জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এখানে ৬৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে কমে দাঁড়ায় ৪০৪ কোটি টাকায়। আর চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) মাত্র ১১০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত চার মাসে কোনো রাজস্বই আসেনি। বন্ধের কারণ সম্পর্কেও জানেন না তিনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম