
গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই আবারও পানিতে ডুবেছে ফেনীর বিভিন্ন এলাকা। জেলার মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩৬টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পরশুরাম উপজেলায় ১৯টি ও ফুলগাজীতে ১৭টি—মোট ৩৬টি স্থানে বাঁধ ভেঙেছে। এর আগে তারা ২০টি ভাঙনের কথা জানিয়েছিল, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যাচাই করে দেখা গেছে ভাঙনের সংখ্যা আরও বেশি।
গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে আসা পানির ঢলে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর ও দাগনভূঞার কিছু এলাকায়। পানিতে তলিয়ে যায় ১১২টি গ্রাম। আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ, যাদের জন্য খোলা হয় ৮৩টি আশ্রয়কেন্দ্র।
জেলা কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, মৎস্য খাতে ক্ষতি: প্রায় ৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত: ৫ হাজার ৫৬৪ হেক্টর, প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি: প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।
স্থানীয় অনেকেই বলছেন, ‘প্রতিবছরই বাঁধ ভাঙে, পানি আসে, ক্ষয়ক্ষতি হয়—কিন্তু সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।’
কমুয়া এলাকার খামারি মো. হারুন বলেন, ‘গতবারও ক্ষতি হয়েছিল, এবারও মাছের ঘের ও মুরগির খামার ডুবে গেছে।’
মহামায়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদা সুলতানা বলেন, ‘ঘরে পানি উঠে আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ঠিকমতো কোনো পূর্বাভাসও পাইনি।’
পরশুরামের বাসিন্দা মাসুম বলেন, ‘বাঁধ ভাঙনের চারদিনেও কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে দেখিনি। এবার টেকসই বাঁধের দাবিতে আন্দোলন করব।’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘ভাঙনের সঠিক তথ্য পেতে সময় লেগেছে। পানি কমে গেলে মেরামতের কাজ শুরু হবে।’
ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ২৩.৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ৪০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীও ত্রাণ বিতরণে সহায়তা করছে।
গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসেও ভয়াবহ বন্যায় ফেনী বিপর্যস্ত হয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৯ জন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে গিয়েছিল শত কোটি টাকা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম