
সংগৃহীত ছবি
চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানিতে আগের মতোই নগদ সহায়তা বহাল রেখেছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে জানানো হয়, রপ্তানির ক্ষেত্রে গত অর্থবছরে যেসব হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা অপরিবর্তিত থাকবে।
রপ্তানিকারকরা আগের মতোই সর্বনিম্ন ০.৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন।
সার্কুলারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে যেসব পণ্য রপ্তানি করা হবে, সেগুলোর বিপরীতে এই নগদ সহায়তা প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, “সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছর কমানো হারগুলোই এই অর্থবছরের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সার্কুলার জারি করা হয়েছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, নগদ সহায়তা পেতে রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত অডিট ফার্ম বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বহিঃনিরীক্ষকের মাধ্যমে নিরীক্ষা করাতে হবে।
কোন খাতে কত প্রনোদনা?নগদ সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ পাবেন তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের রপ্তানিকারকরা। দেশি সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রপ্তানি করলে ৫.৯ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে, যা আগে ছিল ৯.১ শতাংশ।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা থাকছে ১০ শতাংশ এবং ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদারে ৬ শতাংশ। প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সহায়তা ১০ শতাংশ।
পাট ও পাটজাত পণ্যের মধ্যে বৈচিত্র্যময় পণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ, সাধারণ পাটজাত পণ্যে ৫ শতাংশ এবং পাট সুতায় প্রণোদনা ৩ শতাংশ বহাল থাকবে।
এছাড়া হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে সহায়তা ১০ শতাংশ, ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ, বাইসাইকেল রপ্তানিতে ৩ শতাংশ এবং আসবাবপণ্য রপ্তানিতে ৮ শতাংশ।
নগদ সহায়তা অব্যাহত থাকবে হিমায়িত চিংড়ি, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ, প্লাস্টিক পণ্য, হাতে তৈরি পণ্য (যেমন হোগলা, খড়, আখ, নারিকেলের ছোবড়া), তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট, গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি, শিং ও রগ, কাঁকড়া, কুঁচে, আগর ও আঁতর রপ্তানিতেও।