প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫, ১০:৫১ AM

দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ১৮৯৮ সালের ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ সংশোধন করে “The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025” নামে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং একই দিন থেকে তা কার্যকর ধরা হয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এটি জারি করেন।
এতে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে ধারা ১৭৩-এ , যার মাধ্যমে তদন্ত চলাকালে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নতুন ধারা ১৭৩ ‘এ’-এর মূল দিকগুলো:১. অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন (Interim Investigation Report):তদন্ত চলাকালীন সময়ে কোনো মামলার অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার কিংবা তাদের সমমর্যাদার কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত কর্মকর্তাকে অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।এ প্রতিবেদন মামলার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরবে।
২. অব্যাহতির সুযোগ:যদি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ না পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে আদালতে সেই প্রতিবেদন দাখিল করা যাবে। আদালত যদি সন্তুষ্ট হন, তাহলে তিনি অভিযুক্তকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।এতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি ও দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার ঝুঁকি কমবে।
৩. পুনরায় অভিযুক্তের অন্তর্ভুক্তি:অন্তর্বর্তীকালীন অব্যাহতি চূড়ান্ত নয়।তদন্ত শেষে যদি তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে (ধারা ১৭৩ অনুসারে) তার নাম আবার যুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
বিচার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বিধানটি দেশের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি যুগান্তকারী ও মানবিক সংযোজন।এটি একদিকে যেমন নির্দোষ নাগরিকদের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি তদন্তাধীন মামলার বোঝা হ্রাস করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম