স্বৈরাচার শেখ হাসিনা থাকলে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হতো : ড. এম এ কাইয়ুম

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, “বিদেশি নাগরিক হত্যা মামলায় আমাকে সরকারের ইশারায় আসামি করা হয়। বিজ্ঞ আদালত প্রমাণ করেছে আমি নির্দোষ। কিন্তু স্বৈরাচার হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হতো।”
আজ সোমবার (৭ জুলাই) গুলশান ২-এ একটি হলরুমে রামপুরা থানা বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “এই মামলার কারণে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবনযাপন করতে হয়েছে। পরিবার পরিজন থেকে আলাদা থাকতে হয়েছে। এমনকি এই মিথ্যা মামলার কারণে বিদেশেও সমস্যায় থাকতে হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে একের পর এক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে চরমভাবে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে।”
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। সেই নতুন বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এর কারণে মিথ্যা মামলা থেকে আমিসহ আরো তিনজন খালাস পেয়েছি। আর যে কয়েকজন আছেন, তারাও ন্যায় বিচার পাবেন। তারাও এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পাবেন বলে বিশ্বাস করি।”
তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের বাতি জ্বালিয়ে রেখেছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর এ কারণে জুলাই-আগষ্টে ছাত্রজনতার আন্দোলন সহজ হয়েছে।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এম এ কাইয়ুম বলেন, “সময় এসেছে,আপনাদের মূল্যায়ন করা হবে। ধৈর্যহারা হবেন না। নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি করা যাবে না। কাদা ছোড়াছুড়ি করা যাবে না। আন্দোলন সংগ্রামে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের ত্যাগকে মূল্যায়ন করে পদায়ন করা হবে। কেননা যারা আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, তাদের সবাইকে আমরা চিনি। কেউ দূরের নয়। সবার আমলনামা আমাদের কাছে আছে। তবে, আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে কোন আত্মীয়তার সুবাদেও যেন আওয়ামী দোসরদের সংগঠনে জায়গা দেওয়া না হয়।”
ঢাকা ১১ আসনের মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ এম এ কাইয়ুম বলেন, “কোন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যেন চাঁদাবাজি দখলবাজির অভিযোগ না আসে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। তার ঘোষণা অক্ষরে-অক্ষরে পালন করা হবে। কোন অনৈতিক কাজকে সমর্থন করা হবে না। এমনকিছু ঘটলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। কেননা, কোন নেতাকর্মীর এমন কর্মকাণ্ডে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে তা কখনো মেনে নেওয়া হবে না। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।”
তিনি আরো বলেন, “আমার নির্বাচনি এলাকার যেসব নেতাকর্মী গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করবো। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। আমরা সহযোগিতা করবো। ব্যবসা করার মধ্যদিয়ে তারা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে যারা যে কাজের যোগ্য তাদেরকে সেকাজেই যুক্ত করে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এ জি এম শামছুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ফয়েজ আহমেদ ফরু, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন রামপুরা, যুগ্ম আহ্বায়ক মোরশেদ আলম বাবু, ৯৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাইদুল ইসলাম শাহীন, ৯৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, ২৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি তৌহিদ, ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও, আলোচনা শেষে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম এ কাইয়ুমের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান রামপুরা থানা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।