
ফাইল ছবি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চলমান অচলাবস্থা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, “পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পরিপক্ব আচরণ করছি।”
একজন সাংবাদিক জানতে চান, সিটি করপোরেশন মিলনায়তনে ইশরাক হোসেনের মিটিং ও তাঁর বিরুদ্ধে দায় আরোপ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা কী বলবেন। জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, রিটের কারণে বিষয়টি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিচারাধীন ছিল। আমাদের স্থানীয় সরকার বিভাগকেও রিটে পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল। আদালত প্রথমে রিট খারিজ করলেও পরে বাদী আপিল করেন, ফলে সেটি আবার বিচারাধীন হয়ে যায়। এ অবস্থায় শপথ গ্রহণের সুযোগ ছিল না।
তিনি আরও জানান, ২৬ মে ছিল শপথ গ্রহণের নির্ধারিত শেষ দিন। সে অনুযায়ী একটি ফাইল আমার টেবিলেও এসেছিল। কিন্তু বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় আইন মন্ত্রণালয় মত দেয়, এই অবস্থায় শপথ নিলে আদালত অবমাননার শঙ্কা তৈরি হবে। এরপর গেজেটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং ১ জুন করপোরেশনের মেয়াদও শেষ হয়।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, বিচারাধীন একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। এতে নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করেন। তাদের দৈনন্দিন সেবা বন্ধ হয়ে গেলে সেটা শুধু আমার নয়, সরকারের জন্যও বড় ব্যর্থতা হবে। আমরা চাই সবাই আইনি প্রক্রিয়া ও আলোচনার মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। যেহেতু বিএনপির সঙ্গে সরকারের একটি ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, এই সৌহার্দ্য বজায় রাখা জরুরি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিকেন্দ্রিক কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ইশরাক হোসেন গণ-অভ্যুত্থানের একজন অংশীজন। আমি তাকে টার্গেট করিনি। তবে আমরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।
তিনি অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনে তালাবদ্ধ করা, মেয়রের চেয়ারে বসা, কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়া—এসব প্রচলিত আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।
নিজের বিরুদ্ধে ‘টার্গেট করার’ অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ইশরাক ভাই জানেন বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছে। আমাকে কেন টার্গেট করা হচ্ছে, সেটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের কাছে এর প্রমাণও আছে। আমার এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা এই ইস্যু উসকে দিয়েছেন। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়েও দাবিও উঠেছিল। এতে জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইশরাক সাহসী ও তরুণ প্রজন্মের একজন আইডল। তাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা চাই, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তত সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি ছাড়া সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। তবে জনগণের স্বার্থে দলগুলোকে ঐকমত্যে আসা উচিত।
নাগরিক সেবার সংকট নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ৪০ শতাংশ সেবা ইতোমধ্যেই কমে গেছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যেকোনোভাবে সেবা চালু রাখতে। দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি।
বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকেও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে, আমরা তাতে সাধুবাদ জানাই। তবে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে এসব বন্ধ করাও তাদের দায়িত্ব।
সংকট নিরসনে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বড় বড় সিদ্ধান্ত যেখানে আলোচনার মাধ্যমে হয়েছে, সেখানে এতো ছোট একটি বিষয়ও সমাধানযোগ্য। তবে শুরুতে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে