
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাগরপাড় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে। স্থানীয়রা এটিকে ডাকছেন ‘মিনি সি-বিচ’। ঈদুল আজহার ছুটিতে এ সৈকতে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দর্শনার্থীরা ইট-পাথরের শহর থেকে বেরিয়ে একটু প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছেন এই সাগরপাড়ে।
শিল্পনগরের বিশাল বিস্তৃত ফ্যাক্টরি ও গার্মেন্ট শিল্পের পাশাপাশি রয়েছে খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশ। চারপাশে উঁচু-নিচু সবুজ ভূমি, দিগন্তবিস্তৃত নীল আকাশ আর আঁকাবাঁকা পথ যেন প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আধুনিকতার এক মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। এর পাশেই বঙ্গোপসাগরের মোহনায় গড়ে উঠেছে মনোমুগ্ধকর এই সমুদ্রসৈকত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সৈকতজুড়ে উপচে পড়া পর্যটকের ভিড়। হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছেন। সৈকতের আশপাশে গড়ে উঠেছে কয়েকটি অস্থায়ী খাবারের দোকান, যেখানে পাওয়া যাচ্ছে ঝালমুড়ি, বাদাম ভাজা, বুট ভাজা ও বিভিন্ন ঠান্ডা পানীয়। এসব দোকান থেকে পর্যটকরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন। ঈদের ছুটি ছাড়াও প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
পিরোজপুর থেকে ঘুরতে আসা জুয়েল বলেন, ‘এই প্রথম এখানে এলাম। সত্যিই অসাধারণ একটি জায়গা। পানির গর্জন, নরম হাওয়া আর প্রশস্ত পরিবেশ যে কারও মন ভালো করে দেবে। পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর আদর্শ স্থান এটি।’
পর্যটন স্পট হিসেবে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানান ঘুরতে আসা সজিব। তিনি বলেন, ‘এখানে এসে কক্সবাজারের একটুখানি অনুভূতি হয়েছে। সরকার চাইলে এটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মীরসরাইয়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে সৈকতটি।’
পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবের কথাও তুলে ধরেন দর্শনার্থী নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এখানে ঘুরতে এসে অনেক সময় শৌচাগারের প্রয়োজন হয়, কিন্তু কোনো গণশৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে এখানে যদি খাবারের দোকান, বিশ্রামাগার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়, তবে এটি পর্যটকদের জন্য আরও উপযোগী হবে।’
জানা গেছে, একসময় এই জায়গায় পর্যাপ্ত যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। স্থানীয় জেলেরা খালপথে নৌকায় করে সমুদ্রে যেতেন মাছ ধরতে। কিন্তু জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ওঠার পর বদলে যায় এখানকার দৃশ্যপট। সাগর ঘেঁষে নির্মিত হয় সুপার ডাইক, বসানো হয় ব্লক। এসব উন্নয়নের পর ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় এই সৈকতের সৌন্দর্য।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে খুব শিগগিরই ‘মিনি সি-বিচ’ হিসেবে পরিচিত এই শিল্পনগর সমুদ্রসৈকত মীরসরাইয়ের অন্যতম পর্যটন স্পটে রূপ নেবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম