প্রকাশ: সোমবার, ২ জুন, ২০২৫, ১২:৫৭ পিএম আপডেট: ০২.০৬.২০২৫ ২:৫২ PM

সরকারি জমি জবরদখল, বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোটি টাকার বানিজ্য
ঘাটাইল উপজেলায় বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় ৭০০ একর জমি জবরদখল করেছে প্রভাবশালীরা। এমন অভিযোগে বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক।
গতকাল রোববার (১ জুন) দুদকের টাঙ্গাইলের জেলা কার্যালয়ের একটি তদন্ত দল ঘাটাইল উপজেলায় অভিযান চালায়। ঘাটাইলে বন বিভাগের ৭০০ একর জমি জবরদখলে ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তারা দখলদারদের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশের সত্যতা পেয়েছে। দুদকের টাঙ্গাইলের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর এ আলম এসব কথা জানান।
নুর এ আলম জানান, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগসাজশ করে বনের জমি নিজেরাই ব্যক্তিগতভাবে দখলে রেখেছেন। অন্যদের দিয়ে চাষাবাদ করে সুবিধা নিচ্ছেন। কিন্তু সরকারিভাবে ফান্ডে কোনো টাকা জমা দেননি।
তিনি আরও জানান, দুদকের একটি দল দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতাধীন সাগরদীঘি বিট এলাকায় বনের জমি দখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো সরেজমিনে যাচাই করে। এ সময় ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জের সাগরদীঘি বিটের আওতাধীন কামালপুর মৌজার ২০৪, ৫০৭ ও ৩০৮ দাগভুক্ত ২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বন বিভাগের বিপুল সরকারি জমি জবরদখলের প্রাথমিক সত্যতা পান তাঁরা। প্রাথমিকভাবে বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জবরদখলকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করার সত্যতা মিলেছে।
দুদকের টাঙ্গাইল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতাধীন সব রেঞ্জ ও বিটে মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার একর, এর মধ্যে প্রায় ১৭০০ একর জমি জবরদখল হয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জের আওতাধীন ভূমি প্রায় ৬০০০ একর, এর মধ্যে জবরদখলকৃত ভূমির পরিমাণ প্রায় ৭০০ একর। দুদকের দল টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এমন অভিযোগেরও তদন্ত করা হয়।
আরও জানা যায়, নার্সারি সৃজনের টাকা আত্মসাৎ ও সামাজিক বনায়নের অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র সরবরাহের জন্য রিকুইজিশন দেওয়া হয়েছে। রেকর্ডপত্র প্রাপ্তি ও বিশ্লেষণ সাপেক্ষে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশন বরাবর দাখিল করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধলাপাড়া রেঞ্জের এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘টাঙ্গাইল বন বিভাগে কর্মকর্তারা স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে বনের জমিতে অবৈধ চাষাবাদ করিয়ে অর্থ উপার্জন করছেন। বছর ভিত্তিক বনের জমি অলিখিত লীজ দিয়ে ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবান হচ্ছেন। কোন কাগজপত্র ছাড়াই টাকা নিয়ে বনের জমিতে ঘরবাড়ি তৈরির মৌখিক অনুমতি দিচ্ছেন। নার্সারী আর বৃক্ষ রোপনের নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।’
উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জের সাগরদীঘি বিট কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম আনসারি বলেন, ‘সাগরদীঘি বিটের কামালপুর মৌজার ৫০৭ দাগে সাগরদীঘি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা হেকমত সিকদারের দখলে থাকা প্রায় ৫ একর বনভূমিসহ জবরদখলকৃত বেশ কিছু বনভূমি উদ্ধারে দুদকের অভিযান পরিচালিত হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম