প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫, ৫:১৪ পিএম

সচিবালয়ে বিক্ষোভরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলন
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের জন্য আন্দোলতরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
আজ বুধবার দুপুর ২ টায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফর থেকে ফেরার আগ পর্যন্ত ১ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। এছাড়া সরকারের তিনজন উপদেষ্টা ও একজন সচিবের কাছে কর্মচারীরা স্মারকলিপি দেবেন।
নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাইনি। স্মারকলিপিও কর্মসূচির অংশ। ৩১ মে প্রধান উপদেষ্টা দেশে ফেরার পর ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলন মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে যাবে নাকি অবস্থান কর্মসূচি পালন করব সেটি পরে পরিস্কার করা হবে। আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সরকারের চাকরি করি, এটা সত্যি। তবে আমাদের দাবি থাকতে পারে, সেগুলো প্রকাশের অধিকারও থাকতে হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান বাদিউল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সরকারকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে আসছি। ভবিষ্যতেও সহায়তা করব। প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় আমাদের কাঙিক্ষত বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। রাষ্ট্র ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সামনে ঈদ ও বাজেট। আমরা যেহেতু সাধারণ মানুষের সেবক। কর্মচারীরা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ যেন না হয় সেটি আমরা বিবেচনায় রাখছি। সবকিছু মাথায় রেখে আগামী দিনগুলোতে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সঙ্গে জরুরি সেবার কথা বিবেচনায় রেখে সচিবালয়ে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। মাঠ পর্যায়ে সব দপ্তর, পরিদপ্তর, ডিসি অফিসসহ অন্যান্য দপ্তরে প্রতিদিন কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। জরুরি সেবা যেমন- হাসপাতালে রুগীদের যারা সেবা দেন, বাজারে যার সেবা দেন তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে আপনারা যত কম সময় পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন সম্ভব সেটি করবেন। সে বিষয়ে আপনারা নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমার প্রস্তাব আপনারা আধা ঘণ্টার কম সময় কর্মবিরতি পালন করবেন। জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে হবে।
বদিউল কবির বলেন, আমাদের যে দাবি তথা কালাকানুন প্রত্যাহারের বিষয়ে মোটামুটি একটা সবুজ সংকেত পেয়েছি। আশা করি কর্মচারীরা আমাদের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যে ফল আসবে তাতে সন্তুষ্ট হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। এই কালো আইন রাষ্ট্রের জনগণ ও কর্মচারীদের জন্য ফলপ্রসূ কিছু বয়ে আনবে না। কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট। গতকাল মঙ্গলবার সচিবদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সচিব কমিটি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে আজ আলোচনা করেছেন। তারা সুস্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত না দিলেও আমরা ধারণা করছি, আমাদের দাবি পূরণ হবে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহকারীরা বলেন, ১৯৭৯ সালের সরকারি চাকরির বিশেষ বিধান ইতোমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করেছেন। এই বাতিল বিধান পুনরুজ্জীবিত করার মানে নতুনভাবে বিতর্ক তৈরি করা। বর্তমান সরকার সেই কাজটিই করেছে। এর ফলে কর্মচারীদের অধিকার খর্ব হবে, তারা কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়বে। কাজেই এই অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে। অন্যথায় যে কোনো মূল্যে এটা প্রতিহত করা হবে। প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের সব রুমে তালা দেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস