
তানজানিয়ার প্রধান বিরোধী নেতা টুন্ডু লিসু সোমবার দেশদ্রোহ মামলার শুনানিতে সাহসিকতার সঙ্গে আদালতে হাজির হন। দার এস সালামের কিসুতু রেসিডেন্ট ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে প্রবেশের সময় তাঁকে দেখা যায় হাত উঁচিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিচ্ছেন—“চিন্তা কোরো না, আমরা ঠিক থাকব।”
তার চাদেমা দল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে সমর্থকদের স্লোগান—“সংস্কার না হলে নির্বাচন না”—প্রতিধ্বনিত হয়েছে আদালত প্রাঙ্গণে।
গত মাসে টুন্ডু লিসুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তিনি একটি ভাষণে জনগণকে রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচন বর্জন ও অস্থিরতা সৃষ্টির আহ্বান জানান। অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগেই এ মামলাকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।
লিসু ২০২০ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন এবং ২০১৭ সালে এক আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন—তাঁর দেহে ১৬টি গুলি লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
এবারের নির্বাচনে তাঁর দল চাদেমাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। দলটি অভিযোগ করেছে, বর্তমান নির্বাচনী কাঠামো শাসক দল চামা চা ম্যাপিনডুজিকে (সিসিএম) একচেটিয়া সুবিধা দেয়। স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে সিসিএমই ক্ষমতায় রয়েছে।
লিসু এর আগের শুনানিতে জেল থেকে ভিডিওলিঙ্কে অংশ নিতে বাধ্য হলেও, এদিন নিজে উপস্থিত হয়ে আদালত কক্ষে দাঁড়ান। তাঁর এ উপস্থিতিকে গণতন্ত্রের পক্ষে এক প্রতীকী অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, তানজানিয়ায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি কেনিয়ার বেশ কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদকে, যারা লিসুর বিচার পর্যবেক্ষণের জন্য এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কেনিয়ার সাবেক বিচারমন্ত্রী ও বিশিষ্ট আইনজীবী মার্থা কারুয়া এবং সাবেক সুপ্রিম কোর্ট প্রধান উইলি মুতুঙ্গা।
কারুয়া পরে বলেন, “রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের হাতিয়ার বানানো যায় না। মতভিন্নতা থাকলেই কাউকে বহিষ্কার করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ইথিওপিয়ায় বিরোধী দল টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দক্ষিণ সুদানে আবারও জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রুয়ান্ডায় প্রেসিডেন্ট পল কাগামে বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন—যদিও তাঁর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই বিরোধী দমনের অভিযোগ রয়েছে।
তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান নিজেকে মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে বলে দাবি করলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাঁর সেই অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ